বিডিআর পুনর্গঠনে সরকারের নীতিগত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে – কুমিল্লায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লায় বিডিআর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন
কুমিল্লায় বিডিআর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন
স্টাফ রিপোর্টার কুমিল্লা :
বিডিআর পুনর্গঠনের রূপরেখা ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সরকার কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তা’ অচিরেই মন্ত্রী পরিষদ সভায় অনুমোদন দেয়া হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন। সীমান্তে নিয়োজিত বিডিআরদের কর্তব্য পালনে জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রস্তাবিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০০৯ যথার্থ বিধি প্রণীত হয়েছে। সীমান্তে বর্তমানে প্রচলিত সাইকেল বা পায়ে হাটা টহল কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে বিওপি পর্যায়ে টহলের জন্য গাড়ি ও মোটর সাইকেল ব্যবহারের প্রস্তাবনা রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য মাদক পরীক্ষাকরণের সুবিধা ঢাকার বাইরেও স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড. সাহারা খাতুন মঙ্গলবার (২ফেব্র“য়ারী) সকালে বিডিআর’র কুমিল্লাস্থ সেক্টরে বিডিআর আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিডিআর পুনর্গঠনসহ সীমান্তের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন সীমান্ত অপরাধ তথা চোরাচালান প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও বেশী করে সম্পৃক্ত করে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ‘উপহার অর্থ’র সঠিকভাবে প্রদান বাস্তবায়নের একটি খসড়া বিবেচনায় রয়েছে। সীমান্তে বাংলাদেশী জনগণের অযাচিত চলাচলের কারণে সীমান্তের অপর প্রান্ত হতে গুলিবর্ষণে নিহত বা আহত হওয়ার সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্যে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে বিবিধ অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিডিআর ছাড়াও ৭/৮টি সংগঠন, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ ওঁতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্ত অপরাধ দমনে আশানুরূপ সফলতা পেতে হলে এসব ‘ষ্টেক হোল্ডারদের’ সমন্বিতভাবে সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম রোধে সমন্বিত কার্যক্রম একান্ত অপরিহার্য। সমন্বিত কার্যক্রম কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা যায় এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে। সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি করার জন্য বিওপি’র ঘণত্ব বর্তমানে প্রায় ৯ কিঃ মিঃ হতে নামিয়ে ৫ কিঃ মিঃ আনার জন্য সমতলে ৮৯টি বিওপি’র সংখ্যা বৃদ্ধি, সীমান্ত হতে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ২১টি বিওপি সীমান্তের নিকটে স্থানান্তর এবং যেসব পার্বত্য এলাকায় বিডিআর’র সার্বক্ষণিক নজরদারী নেই সেসব এলাকায় নতুন ৬৯টিসহ মোট ১৭৯টি বিওপি গঠনের প্রস্তাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বর্ডার গার্ডের জনবল প্রায় ৫৪ হাজারে উন্নীত করতে বিদ্রোহের পূর্বেই নীতিগতভাবে অনুমোদিত ৯টি ব্যাটালিয়ন বাদে বর্তমানে সামগ্রিক পুনর্গঠনের জন্য কেবলমাত্র অতিরিক্ত ২ হাজার ৩শ’ জনবল প্রয়োজন হবে।
স্বরাষ্টমন্ত্রী আরও বলেন, আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন করতে হলে অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে হবে। চোরাচালান ও মাদক দেশের উন্নয়নে একটি বিরাট বাঁধা। মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনসচেতনতা তৈরী হচ্ছে। চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিডিআরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অনেক ভাল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আশ্রাফ, আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহার, মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, বিডিআর’র ডিজি মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুল ইসলাম, কুমিল্লার সেক্টর কমান্ডার মির্জা এজাজুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনী মোস্তাক ও জিয়া চক্র সেদিন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাওয়া যায়নি। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। অবশেষে দীর্ঘ বছর পেরিয়ে খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি এবং জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত ও দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেল হত্যাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর পালিয়ে থাকা খুনীদের খুঁেজ বের করে এনে ফাসির রায় কার্যকর করা হবে।
2-2 cml pic kamal-comilla
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিডিআর’র কুমিল্লা সেক্টর কর্তৃক গত ৩ মাসে আটক ৫৭ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৮ কেজি হেরোইন, ৯ হাজার কেজি গাঁজা, ৩২ হাজার বোতল হুইস্কী ও বিয়ার, ৩৬ হাজার বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ লাখ ২৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। এদিকে, অনুষ্ঠানের সেক্টর কমান্ডার মির্জা এজাজুর রহমান জানান, কুমিল্লা সেক্টরে গত ৯ মাসে বিডিআর হেরোইন, গাজা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৮৯ কোটি ৩০ হাজার ৯শ’ টাকা মূল্যের মাদক আটক করেছে। এ নিয়ে গত এক বছরে বিডিআর’র কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে ১শ’ ৪৬ কোটি টাকার অধিক মাদকদ্রব্য আটক করেছে। বিডিআর’র দেয়া পরিসংখ্যানে ওই সময়ে বিরাট অংকের আটক এবং মাদকের সাথে কতজন আসামী আটক হয়েছে কিংবা এ বিষয়ে থানায় কতগুলো মামলা দায়ের করা হয়েছে তার কোন তথ্য দেয়া হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...