কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মিছিলে থাকা অস্ত্রধারী দুই যুবককে খুঁজছে পুলিশ

22-150x150
স্টাফ রিপোর্টার কুমিল্লা :
শনিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মিছিলে থাকা অস্ত্রধারী বহিরাগতদের খুঁজছে পুলিশ। এনিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অস্ত্রধারীদের ছবি ছাপা হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন তত্পর হয়ে ওঠে। এলজি এবং চাপাতি নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া দুই তরুণের ঠিকানা ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করবেনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, মিছিলের সময় তোয়ালে মোড়ানো এলজি হাতে কালো জিন্সের জ্যাকেট ও প্যান্ট পরা তরুণের বাসা শহরের ঠাকুরপাড়া এলাকায় এবং মাথায় উলের টুপি, লাল গেঞ্জি ও কালো জিন্স পরা উঠতি বয়সী যুবকের বাসা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামে।
শনিবার ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ওই দুজনসহ অর্ধশতাধিক বহিরাগতকে নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয় এবং এক পক্ষ আরেক পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিটি কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখায় বহিরাগতরা প্রায়ই অস্ত্রসহ মহড়া দেয়। এরা শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে।
কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শনিবার সকালেই কবি নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাসে কমপক্ষে ২৫টির মতো চাপাতি রাখে বর্তমান কমিটির সভাপতির নেতৃত্বাধীন অংশ। তা ছাড়া সাবেক সভাপতির মিছিলে ধর্মপুর এলাকার ছিঁচকে চোর যারা ছাত্রাবাসের ছেলেদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যায় তাদের দেখা গেছে। তারাও ধর্মপুর এলাকার একটি বাড়িতে অস্ত্র এনে রাখে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আজিম খান বলেন, ‘জসিম খানদের মিছিল থেকেই গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। ওরা কমপক্ষে আটটি গুলি করে। পুলিশ ওই সময় নীরব ভূমিকা পালন করে। অস্ত্রধারীরা আমার পক্ষের কেউ নন। বরং তাদের লোকজন আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মিছিলে যারা ছিল সবাই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী।’
কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মতিউল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ অস্ত্রধারী দুই যুবকসহ সংঘর্ষে লিপ্ত থাকা বেশ কয়েকজনকে খুঁজছে। তদন্তের স্বার্থে ওদের নাম প্রকাশ করা যাবে না।’ তিনি জানান, নির্দিষ্ট পোশাক ও পরিচয়পত্র না থাকলে কলেজকে কোনো অবস্থায়ই বহিরাগতমুক্ত করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট পোশাক থাকলে পুলিশ ওই দিনই অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করতে পারত।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। যে কারণে কোনো ধরনের তদন্ত কমিটি কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে কলেজে বহিরাগতদের উত্পাত আগের চেয়ে আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করে

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...