বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির দাফন করা হয়েছে

huda
স্টাফ রিপোর্টার :
বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হওয়ার পর যার যার গ্রামের বাড়িতে বৃহস্পতিবার তাদের দাফন করা হয়েছে। দিনের প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়। এরপর লাশগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় তাদের গ্রামে।
সৈয়দ ফারুক রহমানকে নওগাঁয়, সুলতান শাহরিয়ার রশিদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, বজলুল হুদাকে চুয়াডাঙ্গায় এবং এ কেএম মহিউদ্দিন ও মহিউদ্দিন আহমেদকে পটুয়াখালীতে দাফন করা হয়। লাশ পৌঁছানো ও দাফনের সময় এলাকাগুলোতে ছিলো কঠোর নিরাপত্তা। ফাঁসির আগে বিকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের সঙ্গে শেষ দেখা করেন আত্মীয়-স্বজনরা।
রায় পর্যালোচনায় পাঁচ খুনির করা আবেদন বুধবার খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত। শাহরিয়ার ছাড়া অপর চারজন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন; তবে তা নাকচ হয়।
নওগাঁ: ফারুকের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার মার্মা মল্লিকপুর গ্রামে লাশ পৌঁছে সকাল ৯টার দিকে। লাশ গ্রহণ করেন ফারুকের চাচাতো ভাই আসাদুর রহমান। ফারুকের মা মাহমুদা রহমান, বোন ইয়াসমিন রহমান ও ভগ্নিপতি আশফাক রহমানও সেখানে ছিলেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোয়া ১০টার সময় গ্রামের পারিবারিক কবরস্তানে ফারুককে দাফন করা হয়। এর আগে গ্রামের পুরাতন মসজিদে তার জানাজা হয়। এতে পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী অংশ নেয়। ফারুক রহমানের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে সকাল সোয়া ৮টায় চকআতিথা মোড়ে ছাত্রলীগ আটকানোর চেষ্টা করে। তবে রেব ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে গাড়ি আটকাতে না পারলেও বঙ্গবন্ধুর খুনির প্রতি ঘৃণা জানিয়ে তারা জুতা ছোড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের লাশ সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে পৌঁছায়। লাশ যাওয়ার পর সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয় তার শতবর্ষী বাবা হারুনূর রশিদ ফিরোজ খানকে। এর আগে ভোরে বাড়িতে যান শাহরিয়ারের ছোট ভাই মামুনুর রশিদ খানসহ ঢাকায় থাকা আত্মীয়-স্বজনরা। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে রাতেই কবর খুঁড়ে রাখা হয়। জানাজার পরে কড়া পাহারায় সকাল সাড়ে ৭টায় পারিবারিক কবরস্তানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় শাহরিয়ারকে।
চুয়াডাঙ্গা: বজলুল হুদার লাশ আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামে পৌঁছায় সকাল সোয়া ৯টায়। লাশ গ্রহণ করেন তার চাচাতো ভাই নুরুল হুদা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে দুপুর ২টায় দিকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে হুদার লাশ দাফন করা হয়। দাফনের আগে হাট বোয়ালিয়া স্কুল মাঠে তার প্রথম জানাজায় অংশ নেয় হাজার খানেক গ্রামবাসী। দুপুরে জোহরের নামাজের পর নগর বোয়ালিয়া কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে হুদাকে দাফন করা হয়। বিতর্কিত রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির প্রার্থিতায় এরশাদ আমলে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হুদা।
পটুয়াখালী: এ কে এম মহিউদ্দিনকে (ল্যান্সার) ও মহিউদ্দিন আহমেদকে পটুয়াখালীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় দুপুরের পর। গলাচিপা উপজেলার রাঙাবালী ইউনিয়নের নেতা গ্রামে একেএম মহিউদ্দিনের লাশ পৌঁছায় দুপুর আড়াইটায়। লাশ গ্রহণ করেন তার চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলাম তালুকদার। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে বেলা ৩টার দিকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে তার জানাজায় অংশ নেয় গ্রামবাসী।
অপর মহিউদ্দিনের লাশ তার বাড়ি গলাচিপার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবী গ্রামে পৌঁছায় দুপুর ৩টায়। লাশ গ্রহণ করেন তার চাচা আবুল হোসেন। বিকাল ৪টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাশ দাফনে বাধার দিয়ে স্লোগান তোলে। তবে র্যাব ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...