তামিম ইকবালের শতকের ওপর ভর করে লড়ছে বাংলাদেশ

H
স্টাফ রিপোর্টার :
তিন শ’রও বেশি রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস শুরু করে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের শতকের (১৫১) ওপর ভর করে বেশ ভালোই লড়াই করছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে ইনিংস পরাজয় এড়ানো। ঢাকা টেস্টের তৃতীয়দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে রান তুলেছে ২২৮। ভারতের চেয়ে এখনো ৮৩ রানে পিছিয়ে থাকলেও ৭টি উইকেট আছে হাতে। এখন অলৌকিক কোনো কিছু না ঘটলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হবে ভারতকে। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৪৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
উইকেটে আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল ২ রান নিয়ে। অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান নাইটওয়াচ-ম্যান সাহাদাত হোসেন করেছেন ২।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয়দিন মঙ্গলবার ৩১১ রানে এগিয়ে থেকে মধ্যাহ্ন-বিরতির সময় ইনিংস ঘোষণা করতে গিয়ে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি হয়তো ভেবেছিলেন আজই (মঙ্গলবার) খেলা শেষ করে দেবেন। শুধু ধোনি কেন, অনেকেই ভেবেছিলেন ঠিক এভাবেই। বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসও শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি। মাত্র ১৯ রানের মাথায় (৫) জহির খানের বলে বদলি খেলোয়াড় দিনেশ কার্তিকের হাতে কাভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তাদের ধারণাই ঠিক। টপ ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার পালা শুরু হলো বলে।
কিন্তু তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেন অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। জুটি বেঁধে দলের রানের সঙ্গে যুক্ত করেন দু’শ’, ২১৯ রানের মাথায় জুনায়েদ ৫৫ রান করে উইকেটের পেছনে ধোনির হাতে ধরা পড়েন। তার ১৪৪ বলের ইনিংসে চার রয়েছে ৫টি। জুনায়েদ তার টেস্ট জীবনের পঞ্চম অর্ধ-শতকে পৌঁছান ১২১ বলে। তামিম ও জুনাইদের এই দু’শ’ রানই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে যেকোনো জুটিতে সবচেয়ে বেশি রান তুলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০০৭ সালে। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা করেছিলেন ১৯১।
দলের রানের সঙ্গে আর তিন যুক্ত হতেই ২২২ রানের মাথায় উইকেটের পেছনে ধোনির হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে তামিম ১৫১ রানের চোখ ঝলসানো একটি ইনিংস খেলেন। তামিম তার ১৮৩ বলের ইনিংসটি সাজান ১৮টি চার ও তিনটি ছক্কা দিয়ে। তিনি তার টেস্ট জীবনের দ্বিতীয় শতকে পৌঁছান মাত্র ১০১ বলে, ১৩টি চার ও দু’টি ছক্কার সাহায্যে। এটিই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম টেস্ট শতক
দিনের শেষদিকে পরপর জুনায়েদ ও তামিমের উইকেট দু’টি না পড়লে বলতেই হতো দিনটি বাংলাদেশরই।
সকালে ৫ উইকেটে ৪৫৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন ধোনি ও নতুন ব্যাটসম্যান জহির। দলের রানের সঙ্গে ৮ যুক্ত হওয়ার পরই ফিরে যান জহির (০)। আরো ৫১ রান যুক্ত হওয়ার পর সাজঘরে ফেরেন ইশান্ত শর্মা (১৩)। কিন্তু ধোনি তার আগের দিনের ২২ রানকে টেনে নিয়ে যান ৮৯ রানে। ৫৪৪ রানের মাথায় শতক থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকতে রকিবুল হাসানের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস ঘোষণা করেন তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শফিউল ইসলাম তিন উইকেট নেন ৮৬ রানে। ১১৮ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাহাদাত হোসেন, মোহম্মদ আশরাফুল ও রকিবুল হাসান।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে রান করেছিল ২৩৩। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...