তিতাসে পুলিশিং কমিটির কার্যক্রমে স্থবিরতা শিক্ষাঙ্গনে আশেপাশে ইভটিজিং বৃদ্ধি : অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন

নাজমুল করিম ফারুক তিতাস থেকে :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ইভটিজিং প্রতিরোধ কর্মসূচী হাতে নেয়া এক সময় আলোড়ন সৃষ্টি করা সংগঠন তিতাস থানা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির কর্মকান্ডে স্থবিরতা বিরাজ করায় ইদানিং তিতাসের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বাস ষ্ট্যান্ডে ইভটিজিং আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এইতো কয়েকদিন আগেও দেখা গেছে তিতাস থানা পুলিশিং সমন্বয় কমিটির সদস্যবৃন্দ ও তিতাস থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আগমন করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ইভটিজিং সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি ইভটিজারদের শাস্তির বিধান প্রচারে সচেষ্ট ছিলেন। বর্তমানে তিতাস থানা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির কর্মকান্ডে স্থবিরতা পরিলক্ষিত হওয়ায় তেমন জনসচেতনতামূলক কোন কর্মকাণ্ডই চোখে পড়ছে না। যার ফলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
ইভ শব্দটি এসেছে বাইবেল ও কোরআনে বর্ণিত পৃথিবীর প্রথম নারী বিবি হাওয়ার নাম থেকে। আর টিজিং হচ্ছে বিব্রত করা বা বিরক্ত করা। সরল বাংলায় ইভ টিজিং হল, কোন নারীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ইঙ্গিত বা অশোভন মন্তব্য দ্বারা উত্ত্যক্ত করা। যেমন শিষ বাজানো, কুৎসিত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি করা, পথ আটকে দাঁড়ানো বা ওড়না টেনে ধরা ইত্যাদি।
ইভটিজিং এখন একটা ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে ইভটিজিং এর শিকার সিমি, রুমি, তৃষার মতো কয়েকটি নিষ্পাপ মেয়ের করুণ মৃত্যুই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এর ভয়াবহতা। তিতাসেও সম্প্রতি ইভটিজারদের দৌরাত্ন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হাইস্কুলসহ অন্যান্য স্কুলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থেকে অথবা ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের দোকানগুলোতে আড্ডা মেরে এক শ্রেণীর তরুণ ইভটিজিং এ লিপ্ত থাকে।
এ সম্পর্কে গাজীপুর খান হাইস্কুল এন্ড কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, “স্কুলে আসতে যেতে রাস্তায় ইভটিজাররা অনেক অশোভন মন্তব্য করে, অনেকে আবার পথরোধ করে মোবাইল নাম্বার চায়। এসব প্রায় মুখ বুজে সহ্য করতে হয়, না হলে ইভটিজাররা আরো উগ্র হয়ে মারাত্নক হয়। কোন ক্ষতি করতে পারে অথবা এসব ঘটনা অভিভাবকদের কানে গেলে স্কুলে আসাই বন্ধ করে দিতে পারেন।”
আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ইভটিজিংকে বন্ধু মহলে একটি রোমান্টিক ইমেজ দিতে সচেষ্ট থাকে এবং টিজিংকারী ছেলেকে রোমিও উপাধি দেয়া হয়। এটা যে রোমান্টিকতা নয় বরং একটা মেয়ের জন্য এটা যে কত করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে তা ইভটিজাররা বুঝতে পারছে না। ইভটিজিং এর পরিণতি মেয়েদের স্কুল কলেজ ত্যাগ, এলাকা ত্যাগ, চাকরি ছেড়ে দেয়া, ঘরবন্দি জীবনযাপনসহ আত্বহননের মতো চরম ঘটনাও ঘটতে পারে।”
ইভটিজারদের কোন বয়সের সীমাবদ্ধতা না থাকলেও কিশোর ও তরুণরাই প্রধানত ইভটিজিং করে। এদের অনেকেই আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত থাকে। মেয়েকে স্কুলে বা কলেজে পাঠিয়ে বাবা-মা’রা এক প্রকার আতঙ্কগ্রস্থ থাকেন। তারপরও মেয়েদেরকে স্কুল কলেজে যেতে হয়। চালিয়ে যেতে হয় লেখাপড়া।
“ইভটিজিং একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০(২) ধারায় উল্লেখ আছে কোন পুরুষ অবৈধভাবে তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কোন নারীর শ্লীলতাহানি করলে বা অশোভন অঙ্গভঙ্গি করলে তার এ কাজ হবে যৌন হয়রানি এবং তজ্জন্য উক্ত পুরুষ অনধিক ৭ বছর অন্যুন ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থ দন্ডে দন্ডিত হবেন। তবে এ ধারার অপব্যবহার হতে পারে এ অজুহাতে ২০০৩ সালে এ আইনের সংশোধনও করা হয়।”
তবে অনেক অভিভাবকই মনে করেন এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ ছেলেদের অভিভাবককে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...