ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লায় অবাধে আসছে ফেনসিডিল

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের পূর্বাঞ্চল সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা মরণ নেশা ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মালামাল প্রবেশ করছে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে। পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা সীমান্তে গত ডিসেম্বরে প্রায় ১শ’ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে বলে বিডিআর সূত্র জানিয়েছে। তবে সীমান্তে বিডিআর স্বল্পতা, চোরাকারবারিদের মোবাইল নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা, প্রতিরোধকারী সংস্থার একশ্রেণীর সদস্যের সম্পৃক্ততাসহ রাজনৈতিক প্রভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না সীমান্ত চোরাচালান। মাদকের প্রায় ৬৫ ভাগ চালানই আসছে পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে এমন অভিমত সচেতন মহলের। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তৈরি হচ্ছে নকল ফেনসিডিল তৈরির কারখানা। সেখানকার ফেনসিডিল পাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে। ত্রিপুরা থেকে আসা মাদকদ্রব্য নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বড় কোন চালান ধরা পড়ছে না। চট্টগ্রাম-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা রেলপথে রয়েছে চোরাকারবারিদের একটি বড় সংঘবদ্ধ পাচারকারী দল। ট্রেনসহ বিভিন্ন যানে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে মাদকসহ চোরাচালানের পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। সীমান্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা য়ায়, ৯০-এর দশকে ভারত থেকে নেশাদ্রব্য হিসেবে ফেনসিডিল আসা শুরু হয়। ফেনসিডিল ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কিন্তু সেখানে উৎপাদন হয় বাংলাদেশে পাচারের জন্য। সূত্র জানায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও কুমিল্লা বরাবর ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকার ওশাবাজার, লংকামোড়া, বটতলা, সুকনতলা, রামনগর, কৃষ্ণনগর, জয়নগর, কামান চৌহমনী, তেইল্লা মোড়া, খয়ারপুর, কাশিপুর, দশমীঘাট, ডুবলী, মেলাঘর, উদয়পুর, কলসটিলা, আরাইম্যাচ চৌহমনী এলাকায় নকল ফেনসিডিল কারখানা তৈরি হয়েছে। সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ, বিশেষ করে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাইনে অধিকাংশ রেলপথই ভারত-ত্রিপুরা রাজ্য সীমান্ত এলাকা ঘেঁষা। পুরো সীমান্ত এলাকাই সমতট। সীমান্ত এলাকা সমতট থাকায় ও রেলপথ ঘেঁষা হওয়ায় চোরাকারবারিরা ট্রেন ও বিভিন্ন যানকে বেছে নিয়েছে চোরাইপণ্য পাচারের জন্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রেনের ভেতরের বডি, ছাদসহ ইঞ্জিন ও গার্ডরুমে ফেনসিডিল এমনভাবে সারিবদ্ধ করে সাজিয়ে রাখা হয় যা চোরাকারবারি ছাড়া কারও পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। স্থলপথে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানে করে মাদক পাচার ও ব্যবসা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিডিআর ব্যাটালিয়নের ভারপাপ্ত অধিনায়ক মেজর রূপায়ন যুগান্তরকে জানান, সীমান্তে বিডিআর সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তারা প্রতিদিনই অবৈধ মালামাল আটক করছে। সীমান্তে বিডিআর স্বল্পতা থাকায় চোরাকারবারিরা অভিনব কায়দায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লা সীমান্ত এলাকা থেকে ডিসেম্বর মাসে ৫০ কোটি টাকার মাদক আটক করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন যুগান্তরকে জানান, বিডিআর মাদকদ্রব্য আটক করছে বেশি। সীমান্তের জনগণ সচেতন হলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, এলাকায় চোরাকারবারিরা বিডিআরের হাতে মালামালসহ আটক হলেও তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তে দায়িত্বরত বিডিআর সদস্যরা জানান, দু’জেলা সীমান্ত এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১শ’ কোটি টাকার মাদক বিডিআর আটক করছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...