কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট প্রকট : শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক সংকট প্রকট হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই অধিক ভাড়া দিয়ে আশপাশের মেসে ভাড়া থাকছে। একটি ছোট কক্ষ, তা ভাগ করে নিয়েছে ৬ জন ছাত্রী। পা ফেলার স্থান নেই, ৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি টেবিলও ভাগ করে নিতে হয় অন্তত ৩ জনকে। অনেকেই কক্ষে টেবিল ফেলার স্থান না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিছানার উপর বসেই লেখাপড়া করছে। এমনই দুর্দশার চিত্র দেখা গেল কুমিল্লা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রী নিবাস গুলোর । এগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কুবি ক্যাম্পাসের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কুবির প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পরও আবাসন সুবিধা পাচ্ছে না ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রীরা। ফলে অবিরত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। নিজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরাও। দুটি ছাত্র হল নির্মাণ শেষ হলেও একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে, ফলে দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি সেখানকার আবাসিক ছাত্রীদের। তবে কুবির ভিসি ড. আমির হোসেন খান জানান, ‘আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই ছাত্রী নিবাসের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে, সব আবাসিক হলে গ্যাস সংযোগের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।’ জানা যায়, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কবি নজরুল ও ধীরেন্দ নাথ দত্ত নামের দুটি ছাত্র হল এবং নবাব ফয়জুন্নেসা ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কার্য্যাদেশের ১৫ মাসের মধ্যে ওই ৩টি হলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে গত বছরের মার্চ মাসে তা হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু আজও কাজ শেষ না হওয়ায় আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা। কুবিতে ৩টি ব্যাচে প্রায় ৪০০ জন ছাত্রী রয়েছে। আবাসিক হলের নির্মাণ কাজ এখনোও শেষ না হওয়ায় হলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। বোরকা হাউস, আনোয়ারা ছাত্রী নিবাস, সিটি হোস্টেল, ওবায়েদ মেস, খান বাড়ি মেস ইত্যাদি ছাত্রী মেস গুলোতে ছাত্রীরা প্রতি রুমে ৫-৬ জন গাদাগাদি করে থাকছে। অনেক কক্ষে পা ফেলারও স্থান নেই,একটি টেবিল ভাগ করে ছাত্রীদের লেখাপড়া করতে হয়। এছাড়াও ওই মেসগুলোতে গ্যাস নেই, নিরাপত্তার ঝুঁকিও এড়ানো যাচ্ছেনা। ছাত্রীরা জানান, মেসের অধিক ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীরা বিভিন্ন বাসায় লজিং থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মেসের ভালো পরিবেশ না পেয়ে কেউ কেউ শহরে সাবলেট থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে কুবির আবাসিক ছাত্ররা জানান, দুটি ছাত্র হলে গত মাসে সিট বরাদ্দ দেয়া হলেও হল দুটিতে এখনো চালু হয়নি ডাইনিং। রয়েছে নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা। একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ এখন চলছে কচ্ছপ গতিতে। নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে ছাত্রীরা। ছাত্রী হল চালু না হওয়ায় ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। এছাড়াও প্রতিদিনই তাদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। এ ব্যাপারে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্রী তামান্না হক জানান, কুবিতে ভর্তি হয়েছি প্রায় ৩ বছর, এখনো হল চালু হয়নি, বাধ্য হয়েই অধিক ভাড়া দিয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে। ইংরেজি বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্রী নাজিয়া হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকলে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে এত টেনশনে থাকতে হতো না। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ৩য় ব্যাচের ছাত্রী তানিয়া জানান, হল না থাকায় অভিভাবকরা আমাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেসে দিতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে লেখা পড়ার ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...