জুয়া ও চাঁদাবাজীর মধ্যদিয়ে দেবিদ্বারে পৌষ সংক্রান্ত পোনরা মেলার পঞ্চম দিন অতিক্রম

মেলায় বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে শিশু কিশোরেরাও জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে।
মেলায় বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে শিশু কিশোরেরাও জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে।
ফখরুল ইসলাম সাগর, দেবিদ্বার প্রিতিনিধঃ
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার পৌর এলাকার পোনরা কালী বাড়িতে গত ১৩ জানুয়ারী থেকে আরম্ব হয়েছে পৌষ সংক্রান্ত ঐতিহ্যবাহী মেলা। এ মেলা ১৩ জানুয়ারী থেকে আরম্ব হয়ে ২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চলবে। জুয়া, হাউজ ও চাঁদাবাজীর মধ্যদিয়ে গতকাল (১৭ ডিসেম্বর) পঞ্চম দিন অতিক্রম করছে। যুগযুগ ধরে চলে আশা এ ঐতিহ্যবাহী মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচুর লোকজন আসতো। বিভিন্ন জেলা থেকে আসে কাঠের ফার্নিচার, কুঠির শিল্প, মাটির তৈয়রী জিনিসপত্র, খেলনা সামগ্রী, নাগরদোলা, মিষ্টির দোকান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দোকান। মেলায় বিভিন্ন জিনিস পত্রের দোকান আসলেও মূলত কাঠের ফার্নিচারের জন্যই মেলাটি বিক্ষাত হয়ে আছে। কিন্তু ওই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি এক সময় প্রায় এক থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা জুরে বসলেও বর্তমানে জুয়া, হাউজ ও PIC_0086চাঁদাবাজীর কারনে মেলার প্ররিধি প্রায় অনেকটাই কমে গেছে। যেখানে প্রতি বছর কয়েক শত কাঠের ফার্নিচারের দোকান আসতো। কিন্তু সেখানে এ বছর ৩০ থেকে ৩৫ টি দোকান মাত্র এসেছে। তবে এ ব্যাপারে মেলা কতৃপক্ষ জানান, আরো অনেক দোকান আসবে। মেলায় ফার্নিচারের দোকান কমে যাওয়া প্রসঙ্গে আগত এক ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অতিরিক্ত টোল, বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং ড্রাইবেশন ও লেবার খরচ দেখিয়ে প্রতি গাড়ী থেকে ২০০০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করার কারনে অনেক দোকানই মেলায় আশা বন্ধ করে দিয়েছে। জানা যায়, ক্রেতাদের কাছ থেকেও সরকার নির্ধারিত খাজনা থেকে বেশি খাজনা আদায় করার কারনে ক্রেতার সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। ড্রাইবেশন ও লেবার খরচের নামে অবৈধ ভাবে চাঁদা আদায়কারী পোনরা গ্রামের রুবেল জানান, ৩টি ড্রাইবেশন তৈয়ার করতে ৭০ ট্রাক মাটি লেগেছে, তাই প্রতি গাড়ী থেকে ২০০০ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাশের জমি থেকে মাটি কেটে সেই ড্রাইবেশন গুলি তৈয়ার করা হয়েছে। মেলার পূর্ব দিকে গিয়ে দেখা যায় প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আড্ডা। বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে শিশু কিশোরেরাও জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার টাকার জুয়া চলছে ওই মেলায়। এ PIC_0076ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক মেলা কমিটির সদস্য জানান, একটি প্রভাবশালী মহল এই জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে আলীম নামের এক জুয়ারী জানান, প্রতি বোর্ডের জন্যই মেলা কমিটিকে টাকা দিতে হচ্ছে। মেলা কমিটির সভাপতি আঃ ছামাদ জানান, জুয়ার কোন আসর বসতে দেওয়া হচ্ছেনা। তবে আমরা নিয়ন্ত্রন করতে না পাড়লে পুলিশের সহযোগিতা নেব। কিন্তু মেলা ঘুরে দেখা যায় প্রকাশ্যেই জুয়ার খেলা চলছে। তা বন্ধ করতে মেলা কমিটি বা পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, মেলায় জুয়া চলছে এব্যাপারে কমিটির লোকজন আমাদের অবহিত করেনি, তবে এব্যাপারে খুব দ্রুতই পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জানান, মেলায় কোন প্রকার জুয়া, হাউজ, যাত্রগান, সার্কাস ও অসামাজিক কার্যকলাপ হবেনা এ কন্ডিশনে মেলার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এ দরনের কিছু হলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...