আবাসন সুবিধাবিহীন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কেমন আছে

রুমে টেবিল রাখার জায়াগা না থাকায় একই টেবিলে দুই জন পড়ছে। কাউকে খাটে বসেও পড়তে হয়
রুমে টেবিল রাখার জায়াগা না থাকায় একই টেবিলে দুই জন পড়ছে। কাউকে খাটে বসেও পড়তে হয়
কামরুল হাসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠার তিন বছরেও আবাসন সুবিধা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রীরা। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। নিজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সার্বক্ষনিক চিন্তায় থাকছে অভিভাবকরা। দুটি ছাত্র হলে গত মাসে আসন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। হল দুটিতে এখনো ডাইনিং চালু হয়নি। রয়েছে অবকাঠামোগত নানাবিধ সমস্যা। কিন্তু একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে তা কর্তৃপক্ষও জানে না। নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে ছাত্রীরা।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে দুটি ছাত্র হল (কবি নজরুল ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ) এবং একটি ছাত্রী হলের ( নবাব ফয়জুন্নেসা ) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৫ মাস মেয়াদী হল তিনটির কাজ সম্পন্ন করে গত বছর মার্চে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু আজও কাজ শেষ না হওয়ায় আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা। মোট ৩ টি ব্যাচে প্রায় ৪০০ জন ছাত্রী রয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে লালমাই-ময়নামতির পাদদেশে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা হলবিহীন বাধ্য হয়েই অধিক ভাড়া দিয়ে আশেপাশের মেসে থাকতে হচ্ছে। ফলে হলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। ছাত্রী মেস গুলোর মধ্যে বোরকা হাউস, আনোয়ারা ছাত্রী নিবাস, সিটি হোষ্টেল, ওবায়েদ মেস, খান বাড়ী মেস উল্লেখযোগ্য। সেখানে ছাত্রীরা প্রতি রুমে ৫-৬ জন গাদাগাদি করে থাকছে। সেখানেও তাদেরকে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মেসের অধিক ব্যায়ভার বহন করতে না পেরে কেউ-কেউ আবার লজিং থাকছে। বিশ্বব্যিালয়ের পাশে মেসের ভাল পরিবেশ না পেয়ে কেউ-কেউ শহরে সাবলেট থাকছে।
মেসের সমস্যা সমূহের মধ্যে রয়েছে গ্যাস সংযোগ সমস্যা : বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখনো গ্যাস না থাকায় লাড়কির চুলায় রান্না করতে হয়। ফলে লাড়কি ক্রয় সহ নানা ঝামেলা পোহাতে হয় ছাত্রীদের।
বাজার সমস্যা : বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে-পাশের ছাত্রীদের প্রতিদিনের বাজার করতে হয় দুই কিলোমিটার দূরে কোটবাড়ী থেকে। মেস ম্যানাজারকে প্রতিদিন এ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
নিরাপত্তা সমস্যা : হল বিহীন ছাত্রীরেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হয়। প্রতিদিনই তাদেরকে ইভটিজিং এর শিকার হতে হয়। ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তায় থাকছে অভিভাবকরা।
যাতায়াত সমস্যা : ছাত্রীদের মেস গুলো ক্যাম্পাস থেকে দূের হওয়ায় প্রতিদিন হেঁটে-হেঁটে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। বর্ষাকালে তাদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়াও ছাত্রীদেরকে প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার সম্মূখীন হতে হচ্ছে।
ছাত্রীদের কথা :তামান্না হক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১ম ব্যাচ) :ভর্তি হয়েছি প্রায় ৩ বছর। এখনো হল চালু হয়নি। বাধ্য হয়েই অধিক ভাড়া দিয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে। কতৃপক্ষের কাছে আমারা অনতিবিলম্বে হল চালুর দাবি জানাচ্ছি।
নাজিয়া হাসান (ইংরেজী, ১ম ব্যাচ) :বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকার যে আনন্দ- বেদনা তা থেকে আমরা পুরো-পুরি বঞ্চিত। আর বঞ্চিত থাকতে চাই না। যত তারাতারি সম্ভব হল চালু করা হোক।
কাজী কিশোয়ার ছাফা (ব্যবস্থাপনা, ২য় ব্যাচ) :বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের লাইব্রেরী সুবিধা, ইন্টারনেট সুবিধা সহ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। আর কত বঞ্চিত থাকব।
তানিয়া আক্তার (কম্পিউটার সায়েন্স,৩য় ব্যাচ) :হল না থাকায় অভিভাবকরা আমাকে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেসে দিতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত আমাকে বখাটেরে উত্তক্তের শিকার হতে হয়। মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হয়। কিন্তু কি করব, হল নেই থাকব কোথায় ? তাই বাধ্য হয়েই মেসে থাকছি।
রাজবাড়ী থেকে এক ছাত্রীর অভিভাবক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, মেয়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছি। সেখানে হল চালু না হওয়ায় মেয়েকে মেসে রাখতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আগে ছাত্রী হলের কাজ সম্পন্ন করা। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি তাড়াতাড়ি হল চালু করা হোক।
মোটকথা আবাসিক সুবিধা না থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। তাদেরকে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। এর স্থায়ী সমাধান চায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তাদের জোড় দাবী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্মাণাধীন হলের কাজ সম্পন্ন করে আসন বর্দ্দা দেয়া হোক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আরো কয়েকটি হল নির্মাণ করা হোক। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে সংস্লিষ্ট সকলে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...