কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী শিল্প স্থাপনার পরিবর্তে গড়ে উঠছে আবাসিক ভবন

comilla b
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী অর্ধশতাব্দিকাল ছুই ছুই করলেও রুগ্ন দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রহস্যাবৃত নির্লিপ্তার কারণে কতিপয় প্রভাবশালী স্বল্প মূল্যে ও সহজ কিস্তিতে কারখানার নাম করে প্লট বরাদ্ধ নিয়ে লে-আউট প্লান বহির্ভূত স্থাপনাসহ আবাসিক ভবন নির্মাণে পারিবারিকভাবে বসবাস ও বাস ভাড়া দিয়ে শিল্প এলাকাকে আবাসিক এলাকায় পরিণত করছে। বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় সকল প্রকার অবৈধ ও অননুমোদিত কর্মকান্ড পরিহারের লক্ষ্যে প্লট মালিকদের প্রতি নিয়মমাফিক বহুবার নোটিশ দিলেও তা’ বাস্তবে কখনো কার্যকর হয়নি। অব্যাহত অনিয়ম অব্যাস্থাপনায় বিসিক শিল্প নগরী জর্জরিত থাকায় প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তারা সাইনবোর্ড সর্বস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া একশ্রেণীর প্লট মালিকদের নিকট জিম্মি হয়ে আছে। সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় শিল্পের প্রসার ও বেকার সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৬৬০-৬১ সালে শহরের আশোকতলায় ৫৪ দশমিক ৩৫ একর ভূমিতে বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই এলাকায় ১শ’ ৪৯টি প্লটের মধ্যে কাগজে কলমে ১শ’ ৩৮টি শিল্প ইউনিটের হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে ১শ’ ১৪টি চলমান, চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৫টি, নির্মাণাধীন ১টি ছাড়াও ঋণগ্রন্থতার কারণ দেখিয়ে ১৮টি মিল বন্ধ রয়েছে। প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রায় অর্ধেক শিল্প ইউনিট ছাড়া বাকী প্লটগুলোতে গড়ে উঠা স্থাপনায় কতিপয় প্লট মালিকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিজেরা পারিবারিকভাবে বসবাসসহ বাসা ভাড়া দিয়ে শিল্প এলাকাটিকে আবাসিক এলাকায় পরিণত করছে। বিসিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যুগ-যুগ ধরে শিল্প নগরীর অবকাঠামোগত উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন হয়নি বলে সূত্র জানায়। বিসিক শিল্পনগরী কুমিল্লায় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান অপরিহার্য। সম্প্রতি কুমিল্লার শিল্পনগরী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত নোটিশ প্লট মালিকদের নিকট প্রেরণ করা হয়। ওই নোটিশে বলা হয়, যে সকল শিল্প মালিক অবৈধভাবে শিল্প কারখানার পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন ও বাসা ভাড়া দিয়েছেন তা’ সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া নোটিশে আরও বলা হয়, যে সকল শিল্প কারখানায় দীর্ঘদিন যাবত অব্যবহৃত খালি জায়গা পড়ে আছে তা’ জরুরী ভিত্তিতে সদ্বব্যবহারের পদক্ষেপ নিতে হবে। অনুমোদিত খাত বহির্ভূত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিসিকের নিকট থেকে অনুমোদন নিয়ে চালু করতে হবে। তাছাড়া যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কারখানা ভাড়া দিয়ে রেখেছে সেগুলোকেও বিসিকের নিকট থেকে অনুমোদন করে নিতে হবে। শিল্প নগরীর ভিতরের অবৈধ দোকান ও টি ষ্টল সরিয়ে নিতে হবে। ওই কর্মকর্তার প্রেরীত নোটিশে প্লট মালিকদের আরও বলা হয়, যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিকট সার্ভিস চার্জ, খাজনা, পানির বিলসহ জমির কিস্তির টাকা বকেয়া আছে তা’ পরিশোধ করতে হবে। খাদ্য ও খাদ্যজাত সামগ্রী প্রস্তুতকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে ভেজালমুক্ত খাবার তৈরী করতে হবে ও যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে রুগ্ন বন্ধ হয়ে আছে সেগুলো শীঘ্রই চালু করতে হবে। এমন শর্তাদী আরোপে প্রেরীত নোটিশ বিসিক ঢাকার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিভাগের পরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক, বিসিক ঢাকার শিল্প নগরী ও সমম্বয় বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক, কুমিল্লা শিল্প মালিক সমিতি ও বিসিক কুমিল্লার শিসকে’র উপ-মহাব্যবস্থাপককে অবগত করে প্রেরীত নোটিশে জানা যায়, বিসিক প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে ওইরুপ অর্ধশতাধিক নোটিশ প্লট মালিকদের নিকট প্রেরণ করা হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিকে, বিসিক শিল্প এলাকায় যান চলাচলের জন্যে ১০ হাজার ৭শ’ ৫০ ফুট পাঁকা সড়ক ও পানি নিষ্কাশনের জন্যে ২১ হাজার ৫শ’ ২০ ফুট মাঝারি ও ছোট আকারের ড্রেন রয়েছে। শিল্প নগরীর পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্যে ছিল জলাশয়। জানা গেছে, স্থানীয় দু’টি সিন্ডিকেট ওই জলাশয়টি ভরাট করে হাউজিং ব্যবসা করায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ড্রেনগুলো পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে এবং অল্প বৃষ্টিতেই শিল্প নগরী হাঁটু পানিতে ডুবে যায়।বিসিকে’র একজন শিল্পের মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিসিকের প্লট মালিকরা নিয়মিত কর-ট্যাক্স দিলেও বিগত ৩০ বছরে বিসিক কর্তৃপক্ষ কোন উন্নয়ন করেনি।৭/৮ বছর আগে ড্রেনগুলো শুধু সংস্কার করেছিল। বিসিক সংলগ্ন পশ্চিম পাশের জলাশয়টি বিসিক অন্তর্ভূক্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষ একাধিকবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালেও একটি মহলের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে তা’ আজও আলোর মুখ দেখেনি।গত বছর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১শ’ ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রস্থ একটি বড় ড্রেন নির্মাণের জন্যে জায়গা অধিগ্রহণ করে অর্থ বরাদ্দ হলে তাও বাস্তবায়ন হয়নি।এদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে বরাদ্দ নেয়া বিসিক শিল্প নগরীর মূল্যবান ওইসব অধিকাংশ প্লটই এখন মূলত আবাসিক এলাকায় পরিণত করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...