মুরাদনগরে ৬ যুবকের প্রচেষ্টায় ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা ও ব্রীজ নির্মান

স্টাফ রিপোর্টার :
মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইউছুফনগর গ্রামে ৬ যুবকের প্রচেষ্টায় ১হাজার ফুট কাচাঁ রাস্তা ও পাশ্ববর্তী খালে ৭০ ফুট দীর্ঘ বাশেঁর ব্রীজ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ সংবাদটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। ৬ যুবকের এ আভূতপূর্ণ জাগরনের কথা এখন এলাকার সকলের মুখে মুখে। যে জায়গাটি গত বছর ছিল জমিনের লাইল/সীমানা, সেটি আজ রাস্তায় পরিনত হওয়ায় এলাকার সকলকে অবাক করে দিয়েছে। এ রাস্তা ও ব্রীজ নির্মান করার ফলে ঐ এলাকা এখন উৎসব মূখর আমেজে পরিনত হয়েছে।
সরজমিন মুরাদনগর উপজেলার নিভৃত পল্লী ইউছুফনগর গ্রামের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এ গ্রামে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে। বছরের ৮মাসই এখানে পানি থাকার ফলে এখানকার মানুষের বৈচিত্রময় জীবন যাত্রা পায়ে হাটাঁ ও নৌকা ছাড়া কোন গতি ছিল না। ধনীরামপুর ও নেয়ামতপুর থেকে দু’টি রাস্তা এ গ্রামে ঢুকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নাজুক। আশ-পাশের এলাকা গুলো যখন উন্নয়নে মুখরিত হয়, তখন এ এলাকার ৬ যুবক চিন্তায় মেতে উঠেন, কিভাবে এ গ্রামকে আলোকিত করা যায়। সে পরিকল্পনা মতে প্রথমেই তারা দুধ মিয়া ব্যাপারীর বাড়ী থেকে আবুল খায়েরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ও পাশ্ববর্তী খালে ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হাত দেয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৫লাখ টাকা ব্যয়ে ১হাজার ফুট কাচাঁ রাস্তা ও পাশ্ববর্তী খালে ৭০ ফুট দীর্ঘ বাশেঁর ব্রীজ করার ফলে এ গ্রামের উপর দিয়ে বর্তমানে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, অটোরিকশা, বেবীটেক্সী ও টমটমসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করেছে। এ এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার সওদাগরের যুক্তি পরামর্শে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা ও ব্রীজ নির্মানের উদ্যোক্তা ৬ সুভাগ্যবান যুবকরা হলেন-ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, প্রবাসী হারুনুর রশীদ, আক্তার হোসেন মাষ্টার, আতশ মিয়া, ডাক্তার আব্দুল হালিম ও জসিম উদ্দিন মাষ্টার। এরা সকলেই এখন এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে আরো বড় কিছু গড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে আগ্রহী। তাদের আশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ গ্রামকে একটি আদর্শ ও মডেল গ্রাম হিসেবে পরিনত করবে। এ জন্য তারা প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে সকলের সাহায্য, সহযোগিতা, বুদ্ধি ও পরামর্শ প্রত্যাশা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে এলাকার সমাজসেবক হাজী আব্দুস ছাত্তার মাষ্টার জানান, মনে হয়, আমরা এত দিনে নতুন করে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, যা কখনো কল্পলা ছিল না। এখন বাস্তবে তা’ সত্যি হয়েছে। গর্ভ করার মতো প্রান শক্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ গ্রামে আরো অনেক কিছু হবে বলে তিনি মনে করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...