মহাজোট সরকারের ১ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল ২০০ দিনেরও বেশী

CU-2
কামরুল হাসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
দিন বদলের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গত ১ বছরের শাসনামলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল প্রায় ২০০ দিনেরও বেশী সময়। আওয়ামীলীগের স্থানীয় দুই এমপির মদদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে বার-বার সংঘাত-সংঘর্ষের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা নেমে আসে। এই এক বছরে বিভিন্ন বিভাগে শেষ হয়েছে মাত্র এক সেমিস্টার। কোন কোন বিভাগে এখনো সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হয়নি বলে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত জোট সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত দেশের ২৫ তম নবীন এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়ে শুরু হয় একটি মহলের ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রকারীদের উস্কানীমূলক ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিদায় নেন প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ড. গোলাম মাওলা। দ্বিতীয় ভিসি হিসেবে ৪ বছরের জন্য দায়িত্ব পান রাবি’র বঙ্গবন্ধু চর্চা পরিষদের সভাপতি ড. জেহাদুল করিম। সরকারকে খুশি করতে অতি মাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করেন মুক্ত রাজনীতি চর্চা। ছাত্রলীগের একটি গ্রুপকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। সুবিধাভোগী কতিপয় শিক্ষক-কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন ভর্তি জালিয়াতিতে। নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করানো হয়। এতে কুমিল্লার স্থানীয় দুই এমপি ভিসির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এরই অংশ হিসেবে গত ২৮ এপ্রিল নবীনবরণকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী বাহার সমর্থিত ছাত্রলীগের শহর গ্রুপ এবং স্থানীয় আসনের এমপি নাসিমুল আলম চৌধূরী সমর্থিত ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে ১৫ মে পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রুপের হাতে শহর গ্রুপের কর্মী এ.আর.জিতু প্রহৃত হওয়ার ঘটনায় ৩১ আগষ্ট বহিরাগতদের নিয়ে ফের সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। এতে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। ৩৩ দিন পর ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাস খোলার প্রথম দিনেই ভিসির পদত্যাগ দাবীতে প্রশ্সান ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপ। ৬ অক্টোবর ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে শিক্ষকদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে একাডেমিক কার্যক্রম। সর্বশেষ ৭ অক্টোবর হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের একাংশ এবং শিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। মারাত্মক সেশনজটের কবলে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এদিকে ক্যাম্পাস খুলতে ব্যর্থ হয়ে ১২ নভেম্বর ভিসির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. জেহাদুল করিম। ২৪ নভেম্বর নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পান জাবি’র পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান। তিনি দায়িত্ব গ্রহনের করে দীর্ঘ ৮০ দিন পর ২৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস খুলে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর সঠিক ভাবে সকল কার্যক্রম চললেও গত এক বছরে অর্থাৎ মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩ টি ছাত্র সংঘর্ষের ফলে সরকারী ছুটি সহ প্রায় ২০০ দিনেরও বেশী সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে এভাবে রাজনীতিবিদদের নগ্ন হস্তক্ষেপের বলি হচ্ছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। তাদেরকে শিকার হতে হচ্ছে সেশ্নজট নামক কালো থাবার।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...