কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এসএসসিতে ৫০ হাজার শির্ক্ষাথী ঝরে পড়েছে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবছর এসএসসিতে ৫০ হাজার ২০৭ জন ছাত্রছাত্রী ড্রপ আউট হয়েছে। ড্রপ আউট বা ঝরে পড়ার হার শতকরা ৫৯ ভাগ। ব্যর্থতাকে ঢাকবার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ ড্রপ আউট ছাত্রছাত্রীদের বাদ দিয়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে শতভাগ সাফল্যের স্বীকৃত দিচ্ছে। ড্রপ আউটের ব্যর্থতার দায়ভার কোন কর্তৃপক্ষই নিতে রাজি নয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এবছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক লাখ ২ হাজার ৩২৩ জন। তার মধ্যে নিয়মিত পরীর্ক্ষার্থী মাত্র ৭১ হাজার ২২৮ জন। অনিয়মিত, এক বিষয়ে ফেল এবং মান উন্নয়ন পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩১ হাজার ৯৫ জন। এবছর যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে তারা ২০০৮ সালে নবম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেছিল। একই বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরসহ ৬টি জেলার ১৫৪১টি স্কুল থেকে মোট এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৫ জন ছাত্রাছাত্রী রেজিষ্ট্রেশন করেছিল। তার মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণ করেছে ৭১ হাজার ২২৮ জন। ৫০ হাজার ২০৭ জন ছাত্রছাত্রী এসএসসিতে অংশ গ্রহণ করছে না। নানা কারণে তারা ড্রপ আউট বা ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়ার শতকরা হার ৫৯ ভাগ। অর্থাৎ নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত প্রতি ১শ জনে ৫৯ জন ছাত্রছাত্রী এসএসসি অতিক্রম করতে পারছেনা। বাকী ৪১ শতাংশ মাত্র এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। এই ৪১ জনের মধ্যেও আবার শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ছাত্রছাত্রী প্রতিবছর ফেল করছে। যাদের উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক শির্ক্ষার্থী শিক্ষা জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে। এসএসসিতে ঝরে পড়ার এই হার পঞ্চম শ্রেণীর চাইতে প্রায় তিনগুণ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রের মতে পঞ্চম শ্রেণীতে ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা শতকরা প্রায় ২০ ভাগ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রী পাশ করার প্রেক্ষিতে কিছু স্কুলকে শতভাগ পাশের সাফল্যের কৃতিত্ব দিচ্ছে। কিন্তু নবম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করা সকল ছাত্রছাত্রী এসএসসিতে অংশ গ্রহণকারী স্কুলের সংখ্যা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র জানায়, নবম শ্রেণীতে রেজিষ্টেশন গ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রী এসএসসিতে অংশ গ্রহণ করেছে এমন স্কুল সংখ্যা একটিও নেই।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইমরুল হাসান জানান, ভালো স্কুল এবং ভালো কলেজ হিসেবে স্বীকৃত পাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন অনুযায়ী তাদের পাশের অনুপাত একেবারেই কম। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, স্কুলের স্বীকৃতি ঠিক রাখার জন্য অনেক স্কুলই বেশি পরিমাণে রেজিষ্ট্রেশন করাচ্ছে। আবার অনেক স্কুল ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালু রাখার বা ঠিক রাখার জন্য বেশি সংখ্যক ছাত্রী রেজিষ্ট্রেশন করছেন। কিন্তু এজন্য স্কুল কলেজ গুলোর কোনো জবাব দিহিতার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।
এব্যাপারে গতকাল মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল মতিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক ছাত্রী এসএসসি পর্যন্ত আসতে পারছে না। স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রীকে আমরা ফেল করার ভয়ে এসএসসির ফরম পুরণের সুযোগ দিচ্ছি না। অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রী সংসারের হাল ধরার কারণেও এসএসসিতে ড্রপ আউট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএমকে নাজমুল হক এর সাথে গতকাল রাতে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি কোন কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...