কুমিল্লার চান্দিনায় বিভিন্ন ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল গ্রহন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত : গ্রাহক ভোগান্তি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিভিন্ন ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল জমা নিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার টাকার রাজস্ব আয় ফাঁকি দিচ্ছেন অসাধু ব্যাংক কর্তকর্তা-কর্মচারীরা। যার ফলে প্রতি মাসেই লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
সরকারি নীতিমালায় বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দুইশত টাকার বেশি হলে প্রতিটি বিলে রেভিনিও ষ্ট্যাম্প লাগিয়ে রাজস্ব খাতে পাঁচ টাকা করে জমা থাকার কথা থাকলেও চান্দিনার কোন ব্যাংকেই তা কার্যকর না করে প্রতিদিনই সরকারের হাজার হাজার টাকার রাজস্ব আয় ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হচ্ছেন ব্যাংক কর্তকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তির খোঁজ নেয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি দেয়া শুরু করেছেন ব্যাংক কর্তকর্তা-কর্মচারীরা।
চান্দিনার সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকগুলোতেই প্রতিদিনেই বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সরকারি নীতিমালায় প্রতি দুইশত টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিলে একটি করে পাঁচ টাকা মূল্যের রেভিনিও ষ্ট্যাম্প না লাগিয়ে গ্রাহকদের বিল গ্রহণ করা হয়। চান্দিনার প্রতিটি ব্যাংকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিদিন গড়ে ২শত বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়। তার প্রায় ৭০ শতাংশ বিলেই দুইশত টাকার বেশি হয়ে থাকে। সেগুলোর কোনটিতেই রেভিনিও ষ্ট্যাম্প লাগানো হয় না।
সম্প্রতি চান্দিনার কয়েকটি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা চান্দিনা পোষ্ট অফিস থেকে রেভিনিও ষ্ট্যাম্প সংগ্রহ করে থাকি। যখন আমাদের কাছে রেভিনিও ষ্ট্যাম্প না থাকে তখনই আমরা রেভিনিও ষ্ট্যাম্প লাগাতে পারি না।
তবে গ্রাহকদের সাথে কথা বললে, গ্রাহক মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিটি বিলই ২শত টাকার বেশি হয়ে থাকে
আমার কোন বিলেই রেভিনিও ষ্ট্যাম্প লাগানো হয়নি। এমন অভিযোগ হাজার হাজার গ্রাহকের।
এব্যাপারে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (চান্দিনা) এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, আমাদের ৯টি উপজেলায় ১৭ হাজার ৬শত ৭৯টি বাণিজ্যিক ও ২ লক্ষ ৮শত ৪২টি আবাসিকসহ মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সুবিধার্থে ৭৫টি ব্যাংক তা গ্রহণ করে থাকে। আর সেই ব্যাংক গুলোতে রেভিনিও খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করে থাকি। আমরা গত বছরও প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা রেভিনিও ষ্ট্যাম্প খাতে ব্যাংক গুলোকে প্রদান করেছি। তবে যদি কোন ব্যাংকে রেভিনিও ষ্ট্যাম্প না লাগিয়ে রাজস্ব আয় ফাঁকি দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এদিকে সরেজমিনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তি খোঁজ নেয়ায় চান্দিনার বিভিন্ন ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ না করে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসেই গ্রাহকরা যেখানে বিল প্রদান করতেন সেই ব্যাংক গুলোতেই বিভিন্ন অযুহাতে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করছেননা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চান্দিনার গ্রাহক আব্দুস সালাম জানান, আমি প্রতিমাসেই চান্দিনার জনতা ব্যাংকে ডিপিএস’র টাকার সাথে আমার বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে থাকি। কিন্তু এ মাসে আমার ডিপিএস’র এর টাকা গ্রহণ করার পর বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আমি প্রতিমাসের মতই চান্দিনা সোনালী ব্যাংকে বিল দিতে যাই। কিন্তু তারা আমাকে জনতা ব্যাংক দেখিয়ে দেয় তখন আমি জনতা ব্যাংকে যাই। জনতা ব্যাংকে গেলে তারা আমাকে কৃষি ব্যাংকের কথা বলে। আব্দুস ছালাম ও খাদিজা আক্তারের মত এমন অনেক গ্রাহকই প্রতিদিন এমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমাদের লোকবল নাই। যার কারণে বিল গ্রহণ করতে পারছি না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...