প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুত্ আমদানি ঝুঁকিপূর্ণ : প্রফেসর ড. এস শাহনেওয়াজ আহমেদ

কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক :
বর্তমান অবকাঠামোর উন্নতি করে ২০১৫ সাল নাগাদ প্রতিবেশী দেশ থেকে মাত্র ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করা সম্ভব। আর এর মাধ্যমে চলমান বিদ্যুত্ সংযোগের ‘লোডশেডিং’ কিছুটা কমানো যাবে। তবে প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুত্ আমদানি করলে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়বে। কোনো কারণে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতি হলে তাদের পক্ষ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার আশঙ্কা থাকবে। পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন হলে পুরো অর্থায়নই নষ্ট হয়ে যাবে। ভেঙে পড়বে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা। তাই আমদানির চেয়ে দেশেই বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক।
তড়িত্ কৌশল বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস শাহনেওয়াজ আহমেদ ‘বাংলাদেশে বিদ্যুত্ আমদানির টেকনিক্যাল স্টাডি’তে এবং বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আমিনুল হক এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন।
ড. শাহনেওয়াজ বলেন, বিদেশ থেকে বিদ্যুত্ ক্রয় ও সঞ্চালনের চেয়ে দেশে উত্পাদন ও সঞ্চালন ব্যয় কম হতে পারে। বিষয়টি প্রকৌশলী কিংবা অর্থনীতিবিদদের দিয়ে গবেষণা করিয়ে ঠিক করা দরকার। আর এরপরই বিদ্যুত্ আমদানির পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি এবং অবকাঠামো তৈরির খরচ অর্থাত্ বিদেশে উত্পাদন ও সঞ্চালনে যে খরচ হবে, দেশে উত্পাদন ও সঞ্চালনে তার চেয়ে খরচ কম হতে পারে। তবে বিষয়টি জরিপ চালিয়ে দেখা উচিত। দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনে খরচ কম হলে আমাদের সে পথেই এগুনো উচিত।
প্রফেসর শাহনেওয়াজ বলেন, আমি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির টেকনিক্যাল বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছি। তাতে দেখা গেছে, বিদ্যুতের বর্তমান অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে ২০১৫ সাল নাগাদ নেপাল, ভারত কিংবা ভুটান থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি সম্ভব। এই বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিনগণ্য। বিদ্যুৎ আনতে গেলে কী কী সিস্টেম ব্যবহার এবং কীভাবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সম্ভব হবে, তাও ওই প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রফেসর ড. আমিনুল হক আমার দেশ’কে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সময়ে এখন বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক চাহিদার পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যৎ উত্পাদনের ওপর জোর দেয়া উচিত। কেননা দেশের পররাষ্ট্রনীতি সব সময় এক রকম রাখা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ সংযোগের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার চেয়ে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ড. আমিনুল হক বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে কোনো সময় বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে। এ জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা নিজেদের দেশে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করলে দেশের মানুষ চাকরি পাবেন। চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টি হলে শিক্ষার আগ্রহ ও গবেষণা বাড়বে। শিল্প-কারখানা বাড়বে। সোলার, কয়লা, বায়ু, গ্যাস যা-ই ব্যবহার করা হোক, দেশে বিদ্যুৎ উত্পাদনের ওপর জোর দিতে হবে। প্রফেসর ড. আমিনুল হক বলেন, দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে সরকারি হিসাব কখনই সঠিক থাকে না। সরকার সব সময় মিনিমাম চাহিদাকে হিসাব করে। ২৪ ঘণ্টা আমাদের বিদ্যুত্ দরকার। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। অনেক শিল্প-কারখানায় সরকার বিদ্যুতের সংযোগও দিতে পারছে না। সরকারি হিসাবে চাহিদা সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বলা হলেও মূলত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের উত্পাদন সাড়ে তিন থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই দেশে বিদ্যুৎ উত্পাদনের মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...