মেঘনা-গোমতীর সংযোগস্থলে এখন বিশাল বালুচর

gumti
দাউদকান্দি প্রতিনিধি :
গোমতীতে পানি নেই, শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিশালকায় চর । মাইলের পর মাইল চর। পানির অভাবে নদী পরিণত হয়েছে মরুভূমিতে। নদীর দু’পাশের এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনবরত রুক্ষ থেকে রুক্ষতর হয়ে উঠছে। শুকনো মৌসুম পুরোপুরি শুরু হতে না হতেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য চরের। পানি বলতে কিছুই নেই। দাউদকান্দির কাছে মেঘনা-গোমতী নদীর সংযোগস্থল শুকিয়ে গিয়ে বিশালকায় চর জেগে ওঠায় দাউদকান্দি নদী বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দাউদকান্দি ঘাটে জাহাজ ভিড়া তো দূরের কথা, এখন নৌকাও ভিড়তে পারছে না। ফলে মালামাল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। দাউদকান্দি ঘাটের শত শত কুলি-মজুর বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যেখানে মেঘনা-গোমতী নদীর পানিতে উথাল-পাতাল অবস্থা থাকার কথা, সেখানে কিছু মানুষ বসতি গড়ে তুলছেন । বানাচ্ছেন ঘরবাড়ি। কেউ কেউ ধানের আবাদও করছেন। প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাবে এলাকার পরিবেশও রুক্ষ হয়ে পড়েছে।
নিয়মিত ড্রেজিং না করার কারণে এ অবস্থা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে মেঘনা-গোমতী নদীর সংযোগস্থল দিয়ে খুব সহজেই পারাপার হওয়া যাবে। গোমতী সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও মূল নদীর অস্তিত্বই আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ কারণে জেলার এক বৃহদাংশে পরিবেশ বিপর্যয়ের সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৯৬ সাল থেকেই গোমতী নদীতে ব্যাপক চর পড়া শুরু হয়। ধারাবাহিকতায় আজ সেই চরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গোমতীর উভয় দিকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বালুচর। এ বালুচরে অস্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে মানুষ। বন্যা এলেই তারা আশ্রয় নেয় নদীর পাড়ে অথবা কোনো উঁচু জায়গায়। আর পানি সরে যাওয়ার পর নতুন করে চরের সৃষ্টি হলে আবারও বাঁধে ঘর। নদী এলাকার শ্রমজীবী মানুষকে প্রতিদিন শহরে আসতে হয়। তারা এখন শুকনো নদী দিয়ে এসে কিছু জায়গা পাড়ি দেয়ার জন্য কেবল নৌকা ব্যবহার করে। তবে এদের কেউ কেউ জানান, নদীতে পানি না থাকায় তাদের মতো শ্রমজীবীরা পড়েছেন বেকাদায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এক সময় গোমতী নদীর প্রবল ঢেউ দেখে ভয় লাগত। আজ থেকে ২০/২৫ বছর আগেও গভীর পানি থাকত নদীতে। কখনও কখনও বালু চর দেখা যেত বটে, তবে তার মধ্য দিয়েই থাকত নদীর পানির স্রোতধারা। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম না এলে এমনটি আর দেখা যায় না। নদীতে পানি না থাকলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিকমত পানি না ওঠায় এলাকায় দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট। তখন তাদের অনেক দূর পাড়ি দিয়ে খাবার পানি আনতে হয়। শুধু তাই নয়, ভয়াবহ সেচ সঙ্কটের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। তবে কেউ কেউ বলেন, এ নদী খনন করা বালি দিয়ে দাউদকান্দি থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের কাজ অনেক এগিয়ে যাবে। এর ফলে রাস্তার পাশের ফসলের জমি খননের হাত থেকে রক্ষা পাবে। নদীটি খননের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া জানান, নদী খননের ব্যাপারে অর্থ বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...