ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং-পোষ্টারিং ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে আজ খুলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

CU-2
এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :
আবারো সংঘাত-সংঘর্ষ হবে কি? আবারো কি বাঁধবে আধিপত্যের লড়াই? ক্যাম্পাস খোলা থাকবে তো? নাকি আবারো সেশনজটের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে? এমনই নানা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮১ দিন পর আজ খুলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ইতোমধ্যেই গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা সত্ত্বেও গতকাল ছাত্রদের আবাসিক হল দুটি খুলে দেয়া হয়েছে এবং মেধার ভিত্তিতে সিটপ্রাপ্ত সকল বৈধ ছাত্রদের হলে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে।এ সময় হল ও ক্যাম্পাসে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, হাউস টিউটর ও অন্যান্য বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগামী ছয় মাসের জন্য কোন ব্যাক্তি, গোষঠী ও রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে সকল প্রকার মিছিল-মিটিং-পোষ্টারিং এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবারো ক্যাম্পাসকে রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক দশ দফা নির্দেশও জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রক্টর ড. আবু জাফর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সকল নির্দেশ জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর তৎকালীন ভিসি বিরোধী আন্দোলন, হলে ওঠা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের ফলে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের সাথে দফায়-দফায় বৈঠক করেও ক্যাম্পাস খুলতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গত ১২ নভেম্বর পদত্যাগ করেন ভিসি ড. জেহাদুল করিম। নতুন ভিসি ড. আমির হোসেন খান দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ১৭ ডিসেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আজ ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে পূর্বের সংঘর্ষসমূহে দোষীদের বিরূদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় হল দখল এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আবারো যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা বলিষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে উর্ধ্বতন প্রশাসনের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা সত্ত্বেও দুটি আবাসিক ছাত্র হল খুলে দেয়া হয়েছে। এর পূর্বেই গত ২৪ ডিসেম্বর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের উদ্যোগে হল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। গতকাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে বৈধ ছাত্রদের প্রত্যেকের আইডি কার্ড ও পে-ইন-স্লিপ চেক করে স্ব স্ব সিটে ওঠা নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, দুটি হলের কোনটিতেই এখনো গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি এবং ডাইনিংও চালু হয়নি। নিয়োগ দেয়া হয়নি পর্যাপ্ত লোকবল। হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের জন্য হলগুলোতে নেই কোনো অফিসও।এ ব্যাপারে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোষ্ট কাজী জাহিদুর রহমান জানান, অবকাঠামোগত কিছু সমস্যাসহ পূর্বেই হল চালু করে দেয়া হয়েছে। আমরা শুধু বন্ধ হল খুলে দিয়েছি। তবে খুব শিগগিরই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার বিপরীতে ক্যাম্পাস শান্তিপূর্ণ রাখা প্রসঙ্গে ভিসি ড. আমির হোসেন খান বলেন, অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে রাজনীতিমুক্ত থাকতে হবে। প্রত্যেককে সহনশীল হতে হবে এবং পাঠে মনোযোগী হতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট তিনি সহযোগিতা কামনা করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...