সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থানের অধিকারিণী’ নরসিংদীর সাদিয়া শিকদার

sadia
কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক :
‘আর কেউ নয়, আমাদের সাদিয়া, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে সাদিয়ার বাবা আনন্দে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তারপর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তখনও সাদিয়া বুঝে উঠতে পারেনি, বাবার চোখের জলের মানে কী। এগিয়ে আসেন মা, সঙ্গে বড় বোন। মা-বাবা, ভাই-বোন একসঙ্গে জড়াজড়ি করে কতক্ষণ কাঁদলেন। ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশীদের কাছে। তারাও এসে যোগ দেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। এরপর দলে দলে লোকজন আসতে শুরু করে সাদিয়াদের বাড়িতে। আসেন নরসিংদী জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তানভীর আহাম্মদ। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সাদিয়াদের ঘর লোকারণ্য। তারপর সারা দিন ধরে চলে আনন্দ উৎসব, মিষ্টি বিতরণ। সাদিয়া শিকদারের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের অর্জুনচর গ্রামে। থাকেন উপজেলা সদরে। উপজেলা পরিষদ সড়কে বাসা। বাবা তাজুল ইসলাম গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার খিরাতী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক। মা শেফালী বেগম শিক্ষকতা করেন স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে। বড় বোন নাসিয়া শিকদার মনোহরদী সর্দার আসমত আলী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন।
দিনটি ছিল অন্যসব দিনের মতোই। মনোহরদী উপজেলা সদরও তাই অন্যসব দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। আবহের এ স্বাভাবিকতা ছিল শিকদার-বাড়িতেও। ফলাফল নিয়ে সাদিয়া শিকদারের ঘরে কিছুটা উত্তেজনা ছিল বটে; তবে দুশ্চিন্তা ছিল না। দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিয়ার পরিবারের সবাইকে আনন্দে ভাসালেন। সাদিয়াদের সবার চোখে আনন্দাশ্রু চিকচিক করছিল। শুধু কি তা-ই, আনন্দে ভাসল গোটা মনোহরদী উপজেলা।
ফল শোনার পর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় প্রথমেই শিক্ষকদের স্মরণ করেছি, জানাল সাদিয়া। টিনশেডের ভাড়া বাসায় ভালো ফলের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে সাদিয়া। কখনও নোট বা গাইড বইয়ের সহযোগিতা নেয়নি। শিক্ষকরা যেভাবে পড়তে বলতেন মায়ের সহযোগিতা নিয়ে সেভাবেই পড়েছে। প্রাইভেট পড়েনি কখনও।
সাদিয়া আরও জানাল, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে এক ঘণ্টা পড়াশোনা, স্কুল থেকে ফিরে খেলাধুলা, সন্ধ্যার পর ৯টা পর্যন্ত পড়ে টিভি দেখে ঘুমানো_ এই ছিল আমার নিত্যদিনের রুটিন। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বলে সাদিয়া জানাল।
মেয়ের কথার ফাঁকে ফাঁকে মা এসে অতিথিদের মিষ্টিমুখ করাচ্ছিলেন। আর আপনজনদের জড়িয়ে ধরে মেয়ের জন্য দোয়া চাইছিলেন। মা শেফালী বেগম বলেন, ভালো ফল আশা করেছিলাম, তবে এতটা ভালো আশা করিনি। এখন চেষ্টা থাকবে এ সাফল্য ধরে রাখার। বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষক। আমরা জানি কীভাবে পড়াতে হবে। মেয়েটা আমাদের কথা শুনত। সে সাফল্য পেয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আফরোজের গর্ব বোঝা গেল তার অভিব্যক্তিতে। তিনি জানালেন, এ সাফল্য আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
সাফল্যের এ খবর শুনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সাদিয়া শিকদার ও মুন ইসলাম এবং তাদের বাবা-মা ও স্কুলের শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...