কোন অধ্যাপক ছাড়াই চলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

CU-1
এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :
আচ্ছা, একবার ভাবুন তো! একজনও অধ্যাপক ছাড়া কি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে! ভাবনা যাই হোক, বাস্তবে কোন অধ্যাপক ছাড়াই চলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনটি ফ্যাকাল্টির অধীনে পরিচালিত আটটি বিভাগে তিন ব্যাচের ১১৭৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানের জন্য কোন অধ্যাপকই নেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। ফ্যাকাল্টির ডীন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান ও প্রক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক; এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাষকগণ। ফলশ্র“তিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ ও কৌশলী পাঠদান এবং প্রশাসন পরিচালনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বয়ং ভিসি ছাড়া বর্তমানে একজন অধ্যাপকও নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি ও পেনশন বিধি নিশ্চিত না হওয়া, শিক্ষক গ্রুপিং ও অপরাজনীতি এবং চরম অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা দুইজন অধ্যাপকই তাদের পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত ভিসি, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডীন ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার আলী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গত ১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে বাধ্য হন। সর্বশেষ সোস্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডীন, ছাত্রী হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর ও লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করায় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকশূণ্য হয়ে পড়ে। তবে দুইজনের কেউই তাদের চলে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের নিকট কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি। অন্যদিকে চলমান অস্থিতিশীল পরিবেশ ও ইমেজ সংকটের কারণে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক মানের সিনিয়র শিক্ষকরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মন্তব্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে এখন তিন জন সহযোগী অধ্যাপক এবং চারজন সহকারী অধ্যাপক কর্মরত আছেন। এছাড়া গণিত ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ দুটি চলছে শুধুমাত্র প্রভাষকদের দিয়ে। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকের কৌশলী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিবিএ ফ্যাকাল্টির এক ছাত্রী বলেন, “সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মানের যথার্থ শিক্ষা পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অল্প সময়ের মধ্যে সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।” ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক ছাত্র আফসোস করে বলেন, “অধ্যাপকসহ সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় বিভাগের কার্যক্রম শ্লথগতিতে চলছে। অধ্যাপক থাকলে সামগ্রিক কার্যক্রম আরো সমৃদ্ধ হতো।” মার্কেটিং বিভাগের এক ছাত্রের অভিভাবক নাজমা আক্তার চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “একজনও অধ্যাপক ছাড়া একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কি করে চলছে তা আমার বোধগম্য নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের যথাযথ মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের প্রয়োজনেই অতি দ্রুত সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগ দেয়া আবশ্যক।” এদিকে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষকগণ তাদের সামর্থ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ দুই শিফ্টেও ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তারাও চান সকল বিভাগে সিনিয়র শিক্ষক আসুক, আরো সমৃদ্ধ হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। এ প্রসঙ্গে সহকারী অধ্যাপক এবং হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব বলেন, “সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় ফ্যাকাল্টি ও বিভাগসমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেকটি বিভাগেই অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।” অধ্যাপকসহ সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান জানান, “কয়েকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেও অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া যায় নি। শীঘ্রই আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...