ব্যর্থ হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো হল বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে

kopen hegen sumite
কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক :
শেষ পর্যন্ত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো হল। কয়েকটি দেশের তীব্র বিরোধিতাকে পাশকাটিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচ জাতির প্রস্তাবই মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারত, চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে একটি ‘অর্থবহ সমঝোতায়’ উপনীত হন সেটাই শেষপর্যন্ত ১৯৩ জাতির আলোচনায় নতুন চুক্তি হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলার চুক্তি নয়।
অনেক দেশই চুক্তির বিষয়বস্তুগুলো পুরোপুরি অনুমোদন করেনি। এতে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে না দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ২০২০ সাল থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে শিল্পায়ন যুগ শুরুর পর বিশ্বের যে উষ্ণায়ন শুরু হয়েছে তা ২ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্যে চুক্তিতে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি।
শুক্রবার রাতে চারটি দেশের সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্যোগে করা চুক্তিটির ব্যাপারে সুদান, নিকারাগুয়া, কিউবা, ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া ক্ষোভে ফুঁসে উঠলে এটি ব্যর্থতার কিনারায় চলে যায়।
১২০টি দেশের নেতারা শুক্রবারেই কোপেনহেগেন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর শনিবার সম্মেলনের বাড়তি অধিবেশনে এই দেশগুলোসহ আরও কয়েকটি দেশ চুক্তিটি প্রত্যাখান করে বলেছে, বিশ্বের উষ্ণায়ন মোকাবেলায় এটি জাতিসংঘের পরিকল্পনা হতে পারে না।
DENMARK
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ঝুঁকির মুখে থাকা ক্ষুদ্র রাষ্ট্র টুভালুর প্রতিনিধি ইয়ান ফ্রাই বলেন, “আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, টুভালু এই দলিল মেনে নিতে পারে না।” ।
ইয়ান বলেন, সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বাড়লে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে তারা। এ দলিলে উষ্ণায়ন বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা অপর্যাপ্ত এবং এতে “শেষ হয়ে যাবে টুভালু।”
ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, কিউবা এবং নিকারাগুয়াও ক্রুদ্ধভাষায় “কোপেনহেগেন চুক্তির” নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, বিশ্বের উষ্ণায়ন মোকাবেলায় এতে কোনো কাজ হবে না। অন্যায়ভাবে রুদ্ধদ্বার কক্ষে বসে এ চুক্তি করা হয়েছে।
“অবশেষে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি – জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, জাতিসংঘের চুক্তি হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য চুক্তিটির সম্মেলনে যোগ দেওয়া ১৯৩টি দেশের সবার সম্মতির দরকার ছিল।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, “এই ‘কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড’ হয়তো সবাই যা চেয়েছিলেন তার পরিপূর্ণ প্রতিফলন নয়; তবে এ সিদ্ধান্ত… এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।”
ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন ও ব্রাজিলের নেতাদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে একটি ‘অর্থবহ সমঝোতায়’ উপনীত হওয়ার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোপেনহেগেন ত্যাগের আগে বলেন, এটি হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ এবং তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...