আজ ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, কুমিল্লায় ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ

victory_day
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা থেকে :
বাঙ্গালী জাতির আজ মহান বিজয়ের দিন। আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় দিন। আজকের এইদিনে বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয়েছিল নতুন সার্বভৌম একটি দেশ, নাম তার বাংলাদেশ। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিত্বে প্রায় দেড় হাজার মাইলের দূরবর্তী দুটি ভৌগোলিক এলাকা নিয়ে একটি রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারেনা,এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই চির সবুজ দেশে ৩৮ বছর আগে আজকের এইদিনে উদয় হয়েছিল হাজার বছরের বহু কাংক্ষিত স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ সূর্য। সেই দিনের সেই সূর্যের আলোয় ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন, যে স্বপ্নের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল এদেশের ৩০ লাখ দেশপ্রেমিক। আজ ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায়নি,শেষ হয়নি মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম,জীবনের অন্তিম মূহূর্তে এসেও জীবন সংগ্রামে আজও লড়ছে অনেক মুক্তিযোদ্বা। বিজয়ের আনন্দের এই দিনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজও থামেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় শোনার জন্য তারা আজও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশন কর্মকর্তা জন আর কেলি সেনানিবাসের কমান্ড বাংকারে পৌছান। সেখানে নিয়াজীকে পাওয়া যায়নি,বিবর্ণ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ফরমান আলীকে পাওয়া গেল।ফরমান আলী জানায়,আত্নসর্মপণ সংক্রান্ত ভারতীয় বাহিনীর সব প্রস্তাব তারা মেনে নিয়েছেন,কিন্তু তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় ভারতে সেই প্রস্তাব তারা পাঠাতে পারছেন না। তখন কেলি প্রস্তাব দেন,জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে তিনি বার্তা পৌছে দিতে পারেন।আত্নসমর্পণের জন্য বেধে দেয়া সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আরোও ৬ ঘন্টা বাড়ানো ছাড়া ভারতীয় বাহিনীর সব প্রস্তাব মেনে নিয়ে আত্নসমর্পণের বার্তা পৌছে দেয়া হয় জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহার করে। তখন ভারতে সকাল ৯টা ২০ মিনিট বাজে।
attoshomorpon
কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডের (বর্তমানে সেক্সপিয়ার সরণী) একটি দোতালা বাড়িতে তখন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালবেলা । বরাবরের মতো সেদিনও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের কক্ষের দরজাটা একটু খোলা ছিল।টেনশনে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ অভ্যাসবশে ডান হাতের আঙ্গুল কামড়াচ্ছেন।
আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে তাজউদ্দিন সাহেবের ফোনটি বেজে উঠল। তখন ওই ফোনে গুরুত্বর্পূন কেউ ছাড়া ফোন করতে পারেনা। কী কথা হলো তা বোঝা গেল না।কিন্তু ফোনে কথা বলেই,চোখেমুখে আকাশ ছোয়া আনন্দ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন,সবাইকে জানিয়ে দাও,আজ আমরা স্বাধীন।বিকেল চারটায় পাক হানাদার বাহিনী আত্নসমর্পণ করবে।।প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবশ্য বিজয়ের খবরটি সবাইকে শোনালেন ।আর বললেন,কাজের প্রথম পর্যায় শেষ হল মাত্র।এবার দ্বিতীয় পযার্য়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকায় বিজয়ের নিশ্চিত খবর এসে পৌছেছে কিছুক্ষণ আগে।আত্বসমর্পণ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।খুশিতে আত্নহারা ঢাকাবাসী কি করবে না কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিজয়ীর বেশে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করল। এর আগেই মীরপুর ব্রীজ দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
পৌষের সেই পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার রেইসর্কোস ময়দান( বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)প্রস্তুত হলো ঐতিহাসিক এক বিজয়ের মূহূর্তের স্বাক্ষী হওয়ার জন্য।বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক জোন-বি এবং ইর্স্টান কমান্ডের কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে আত্বসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন পাক হানাদার সৈন্য। মেজর জেনারেল জ্যাকবের তৈরি করা আত্নসমর্পণের দলিলে সই করলেন জেনারেল নিয়াজী ও লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।মুজিবনগর সরকারের পক্ষে তখন উপস্থিত ছিলেন গ্র“প ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
নয় মাসের নরক-যন্ত্রনা শেষে জন্ম নিল একটি নতুন দেশ-বাংলাদেশ।
bijoy
কুমিল্লায় মহান বিজয় দিবস ২০০৯ উদযাপন উপলক্ষে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচী। আজ প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের টাউনহল প্রাঙ্গনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩১(একত্রিশ বার)তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ সূচনা হবে এবং অতঃপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি,আধা-সরকারি,স্বায়ত্ব-শাসিত ও বেসরকারি/ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় কুমিল্লা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,সংগঠন, এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের অংশগ্রহনে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক অভিবাদন গ্রহন এবং পুরুষ্কার বিতরণ করবেন।সকাল ১১টায় সদরের সকল সিনেমা হলে ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু-কিশোরদের জন্য বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে শহীদমুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।মসজিদ,মন্দির,র্গীজা,প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।দুপুরে হাসপাতাল,জেলখানা,বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ,শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান সমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিকাল ৪টায় কুমিল্লা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং পরে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।বিকাল ৪টায় শিশু একাডেমীতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ে মহিলাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং টাউনহলে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...