বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবলের ফাইনালে ভারত ও মালদ্বীপ

2009-12-11-18-27-46-December.....Eleven-56
স্টাফ রিপোর্টার :
শ্রীলঙ্কাকে হতাশায় ডুবিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে গেল মালদ্বীপ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম সেমিফাইনালে ৫-১ গোলে হেরে গেছে শ্রীলঙ্কা
দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে বাংলাদেশকে ১-০ গোলের হতাশায় ডুবিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবলের ফাইনালে উঠে গেছে ভারত।
শুক্রবার প্রথম সেমিফাইনালে ২২ মিনিটেই ১-০ গোলে এগিয়ে মালদ্বীপ। ডান দিক থেকে আশফাগের ক্রস, হেডে লক্ষ্য ভেদ করেন আহমেদ তরিক। পিছিয়ে পড়লেও সমানতালেই লড়ে যাচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছিল খেলা। তারপরও প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি। ৬২ মিনিটে ইবি চান্নার গোলে সমতা ফেরায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু গোলরক্ষকের শিশুতোষ ভুলের কারণে দু মিনিটের মধ্যে আবার পিছিয়ে পড়ে তারা। ফাজেল ইব্রাহিমের নিরীহ দর্শন শটটি সামনে ঝাঁপিয়ে কৌতুকপ্রদ এক দৃশ্যের অবতারণা করেন স্বদেশ কুমার, বল আশ্রয় নেয় জালে। তারপর আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি শ্রীলঙ্কাকে। ৩২ মিনিটে একক নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কার রক্ষনভাগকে হতভম্ব করে দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার আশফাক আলী ব্যবধান নিয়ে যান ৩-১-এ। ৯ মিনিট পর আবার গোল। কৃতিত্ব সেই আশফাক আলীর। তাকে ডি-বক্সে ফেলে দেন শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক। পেনাল্টি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করেন ফাজেল ইব্রাহিম। ৮৯ মিনিটে শ্রীলঙ্কার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি খেলোয়াড় আলী আসাদ। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাকে যেতে হয় চরম হতাশা নিয়ে।
মালদ্বীপের কাছে এভাবে নাকাল হতে হবে শ্রীলঙ্কার ট্রেনার সুমিথ ওয়ালপোলাও ভাবেননি। সংবাদ সম্মেলনে তাই তার কন্ঠ থেকে ঝরলো শুধু হতাশা আর বিষন্নতা,”আমরা খুবই হতাশ। এমন পরাজয় আশা করিনি। দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকা স্বত্ত্বেও ভালো খেলতে পারিনি। মালদ্বীপ ভালো দল হিসেবেই জিতেছে।”
মালদ্বীপ অধিনায়ক আশফাক আলীর প্রশংসাও করলেন ওয়ালপোলা। তার দৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা খেলোয়াড় আশফাক।
দল ফাইনালে ওঠায় মালদ্বীপের কোচ আরবানিয়া ইস্তভান খুশি। তবে খুশির মুহুর্তে স্বীকার করলেন ৫-১ গোলের জয় তিনিও আশা করেননি, বললেন,”আমরা সব সময় গোলের জন্য চেষ্টা করেছি। সমন্বিত প্রয়াসের সুফল পেয়েছি আমরা। শ্রীলঙ্কা বেশ চেষ্টা করেছে, কিন্তু হয়ে ওঠেনি।”
দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত লড়াইটা হয়ে গিয়েছিল ভারত-আমিনুল লড়াই।
অধিনায়ক আমিনুল দ্বিতীয়ার্ধে দাঁড়িয়েছিলেন দেয়াল হয়ে। তাতে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে বাংলাদেশের অধিনায়ককেই। ১-০ গোলে দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল জিতে বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবলের ফাইনালে উঠে গেছে ভারত।
প্রথমার্ধে একচেটিয়া প্রাধান্য ছিল ভারতের। গ্যালারিভর্তি দর্শকের সমর্থন সত্ত্বেও ৪৫ মিনিটে বলতে গেলে খুঁজেই পাওয়া যায়নি স্বাগতিকদের। তারপরও কোনো গোল হয়নি শুধু আমিনুলের কৃতিত্বে। ভারতকে নিশ্চিত দুটি গোল থেকে বঞ্চিত করেন অনেকের মতে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা এই গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে তার নৈপুন্যের কাছে বেশ কয়েকবার অসহায় মনে হয়েছে ভারতীয়দের। গোল না পাওয়ার হতাশা কয়েকবারই পুড়িয়েছে তাদের। শুধু একটিবার আমিনুল আর পেরে ওঠেননি। ৬১ মিনিটে রবার্টের ফ্রি কিক বোকা বানায় তাকে। সেই গোলই ফাইনালে নিয়ে গেছে বর্তমান রানার্সআপদের।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...