বাদ্য যন্ত্র মেরামত যাদের পেশা সেই ঋষি সম্প্রদায়ের দুর্দিন ।। পাল্টে যাচ্ছে জীবন ও কর্ম

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (কুমিল্লা) থেকেঃ
চলমান জীবনে সমস্যা ও সম্ভাবনার কোনো শেষ নেই। সে সব সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনের নানা জটিলতা আর টানাপড়েন বদলে দিচ্ছে গ্রামীন পটভূমি। শখ ও আহলাদ এখন নির্বাসিত। গ্রাম-গঞ্জে নিয়মিত গানের আসর এখন আর বসে না। টিভি, সিডির জমানায় দুধের স্বাধ ঘোলে মেটাতে হয় বিনোদন পিপাসুদের। এই প্রেক্ষাপটে বাদ্যযন্ত্র মেরামতকারী ঋষি সম্প্রদায়ের এখন চলছে ভীষণ দুর্দিন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে কোন রকমে। তবুও বংশ পরম্পরায় এরা বাঁচিয়ে রেখেছে পূর্ব পুরুষের পেশা। জীবন জীবিকার পিচ্ছিল পথে নানা স্থান ঘুরে ঋষি সিবাশ চন্দ্র এখন আস্তানা গেড়েছেন কান্দিরপাড় কুমিল্লার রানীর বাজার একটি ঘরে। তিনশ টাকায় ঘরটি ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছেন বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কাজ। তবে ব্যবসার টাকা পয়সা নেই তেমন একটা। সিবাশ চন্দ্র মিতালী সুজ এসে জানান দৈনিক ৭০/৮০ টাকার বেশি আয় হয় না, অথচ সংসারে দৈনিক চাল লাগে ২ কেজির বেশি, স্ত্রী ৩ ছেলে মেয়ে সহ ৫ জনের সংসারে তাই অভাবের দৈত্য হানা দেয় প্রতিদিন। অর্ধাহার নিত্যদিনের সঙ্গী, ভাত, ডাল ছাড়া উন্নত খাবার স্বপ্নের মতই মনে হয়। তিনি আরো জানান অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের চেয়ে ডুগি, তবলা ও খোষ বা ঢোল মেরামতের কাজ বেশি পাওয়া যায়। কোন মাসে ৪/৫টির বেশি কাজ থাকে না। একটি কাঠের ঢোল ১২শ টাকায়, মাটির তৈরি তবলা ৫শ টাকা, ষ্টিলের তবলা ১২শত টাকায়, হারমোনিয়াম আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আগের মতো বাদ্যযন্ত্র তৈরি বা মেরামতের কাজ নেই। সিবাশ চন্দ্রের ধারণায় মানুষের হাতে টাকা নেই। মনে শান্তি নেই। আখড়াই, সারিন্দা, খমকের মত অনেক বাদ্যযন্ত্র প্রায় হারিয়ে গেছে, গানের দল ও ভেঙ্গে যাচ্ছে, বেঁচে থাকার তাগিদে ঋষি সম্প্রদায় অনেকে অন্য পেশানির্ভর হয়ে পড়েছে। হিন্দুদের কিছু কীর্তন দল এখনো টিকে আছে বলে হয়তো বা বেঁচে আছি। কীর্তন দলের সদস্য বিপ্লব জানান ঋঝি সম্প্রদায় না থাকলে হিন্দুদের পূজা পার্বনে অনেক সমস্যা হতো। অথচ কাজ না থাকায় এই পেশায় কর্মরতরা টিকতে পারছে না। তাদের এই দূর্দিনে সরকার আর্থিক সাহায্য করা প্রয়োজন।

Check Also

কুমিল্লায় ডিবির অভিযানে ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডাক্তার গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টারঃ- রাজধানীতে ইয়াবা পাচারকালে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন মো. রেজাউল হক (৪৫) নামের ...