আজ ১১ ডিসেম্বর লাকসাম মুক্তদিবস

স্টাফ রিপোর্টার :
বছর ঘুরে আবার এসেছে বাঙ্গালী জাতির ঐতিহাসিক বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ত যুদ্ধের পর এ ডিসেম্বর মাসেই বাঙ্গালী জাতির বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙ্গালীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, যৌথ ও মিত্র বাহিনীর উর্পযুপরি আক্রমনে পরাস্ত হয় পাক হানাদার বাহিনী। আর এ ভাবেই যৌথ আক্রমনের ফলে বিভিন্ন অঞ্চল পাক হানাদার মুক্ত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ ডিসেম্বর ৭১, কুমিল্লার লাকসাম হানাদারমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সুসংগঠিত করা এবং সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য লাকসাম অঞ্চলকে ৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। ১, ২, ৩ ও ৪নং সেক্টর ছিল যৌথ কমান্ডের অধীন। র্পূব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ চার দিকের যে কোনো দু’দিকের ত্রিভুজ সীমা নিয়ে গঠিত চারটি জোনের কমান্ডের সঙ্গে একাধিক প্লাটুন গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এএফ কমান্ড ও বিএলএফ কমান্ড হিসেবে পরিচিত এ বাহিনি মুক্তিযুদ্ধে শক্তিশালী ছিল। লাকসামের র্বতমান থ্রি-এ সিগারেট ফ্যাক্টরিতে ’৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনির যুদ্ধের ঘাঁটি ছিল। উত্তরে বিজয়পুর এবং পশ্চিমে চাঁদপুর, দক্ষিণে সোনাইমুড়ী এবং র্পূবে ভারত সীমান্ত ছিল পাক ফৌজের যুদ্ধের এলাকা। পাক ফৌজের ঘাঁটি ছিল লাকসাম। অস্ত্র ও যুদ্ধের যাবতীয় উপকরণ লাকসাম থেকে সরবরাহ করা হয়। নোয়াখালী এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের সঙ্গে স্থলপথে যোগসূত্র ছিল লাকসাম। পাকবাহিনী নিজেদের ঘাঁটিতে মানুষকে ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করে শত শত লাশ লাকসাম রেলওয়ে জংশনের দক্ষিণে বেলতলী বধ্যভূমিতে মাটিচাপা দিত। বধ্যভূমি থেকে ৫শ’ গজ পশ্চিমে লাকসামের র্বতমান থ্রি-এ সিগারেট ফ্যাক্টরিতে লোকজন ধরে নিয়ে চালাত নির্যাতণ নিপীড়ন। গড়ে তোলা হয়েছিল র্টচার সেল। কারও প্রাণ গেছে র্টচার সেলে আর কারও গেছে বধ্যভূমিতে। যাদের ধরে র্গত করানো হতো তাদের হাত বেধে র্গতের পাড়েই চালানো হতো গুলি। এখনও বুকে গুলি নিয়ে বেচে আছেন অনেকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির আহমদ ভূইয়া, আবুল হোসেন ননী, জাহাঙ্গীর মাওলা চৌধুরী ও আবদুল বারী মজুমদার জানান, পাকসেনারা লাকসাম বেলতলী বধ্যভূমিতে ১০ হাজার বাঙালিকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়েছে। র্বতমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমিটি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...