শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা চেয়ে কুবির ১৮৪ ছাত্র-ছাত্রীর বিবৃতি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও যথাযথ নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৮৪ জন ছাত্র-ছাত্রী। বিবৃতিতে তারা বলেন,“ উজ্জ্বল ভবিষ্যত বির্নিমানের স্বপ্ন এবং কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির করাল গ্রাস ও শিক রাজনীতির কারণে চোখে-মুখে আমরা আজ অন্ধকার দেখছি। মা বাবার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে যখন অধ্যয়ন করছি তখন ছাত্র রাজনীতির নামে কতিপয় পথভ্রষ্ট শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হচ্ছি আমরা। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি আমাদের মত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানেরা। তাছাড়া কিছু শিক্ষকের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা আজ সীমা ছাড়িয়ে। যাদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে অনেক নীরিহ শিক্ষার্থী, লাঞ্ছনার স্বীকার হয়েছে অনেকেই। সন্ত্রাসীদের গ্রুপে-গ্রুপে সংঘর্ষ এখানকার নিত্যকার ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভয় পাচ্ছে।” তারা বলেন,“আমরা অনেক আশা-আকাংখা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ ছাত্ররাজনীতির কারণে সেশনজট ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যেখানে ক্যাম্পাস ছিল “রাজনীতি ও ধুমপান মুক্ত” সেখানে আজ কর্তৃপরে দায়িত্বহীনতা ও লেজুরভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। মাসুম, অর্ণব, শাহারিয়ার, ফাহিম, মাহি, তৌহিদ ও ইলিয়াসদের মত সন্ত্রাসীদের দ্বারা ক্যাম্পাসে একের পর এক সংঘটিত হচ্ছে বিভিন্ন অপকর্ম। তাদের দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে আমাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঠুনকো অভিযোগে ছাত্রদেরকে মারধর, মেসে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, কর্মকর্তা- কর্মচারী ও সম্মানিত শিকদেরকে লাঞ্ছিত করা এবং র‌্যাগের নামে শিক্ষার্থীদের দ্বিগম্বর করার মত বিভিন্ন অপকর্ম যে কোন মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।” বিবৃতিতে তারা আরো বলেন,“পর্যটন খ্যাত শালবন, ময়নামতি ও যাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় অহরহ চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। মাসুম-অর্নবের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাবাসী। মেধার ভিত্তিতে আমরা যারা হলে আসন পেয়েছি তারা আজ রাজনীতির শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছি। চুড়ান্তভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপরে নাকের ডগায় এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড পরিচালনা করলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। কর্তৃপক্ষের এই নিরব ভূমিকা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।তাদের এখন প্রতিহত করতে না পারলে আশাহত হবে কুমিল্লাবাসী। আজ পর্যন্ত প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা হতাশ।” বিবৃতিদাতারা সচেতন দেশবাসী ও কুমিল্লাবাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় রায় এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। সাথে সাথে প্রশাসনের কাছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচারের আওয়তায় আনা, ক্যাম্পাসে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, ছাত্র-ছাত্রীদের উস্কানি দাতা শিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মেধার ভিত্তিতে হলের আসন বণ্টন নিশ্চিত ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...