কুমিল্লায় তাবিজ আর পানিপড়ার খপ্পরে সাধারণ মানুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি : ‘জীবনে চলার পথে নানা সমস্যা যেমনি রয়েছে তেমনি সামাধানের ব্যবস্থাও আছে। সঠক পরামর্শ আর দাওয়া পেলে অবশ্যই আপনার সমস্যা দূর হবে। একশ পার্সেন্ট চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি হতাশা, ব্যর্থতা কাটিয়ে আপনি লাভ করবেন পরিপূর্ণ যৌবন।’
এ রকম হাজারো কথার জাল বিছিলে ক্যানভাসার নামের ওষুধ ও তাবিজ বিক্রেতারা প্রতিদিন কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা, রেল গেইট, ফৌজদারি মোড়, রেইসকোর্স, পুলিশ লাইন, বাদুরতলা, কান্দিরপাড়, হোটেল ডায়নার সামনে, অহিদুজ্জামান ম্যানশনের সামনে, সমবায় ব্যাংক মার্কেটের সামনে, লিবার্টি মোড়, মনোহরপুর, ছাতিপট্টি, চকবাজার বাস টার্মিনাল, তেরিপট্টি মোড়, টমছমব্রীজ বাসস্ট্যান্ড, বেবী ষ্ট্যান্ডসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের তাদের তৈরি সালসা, হালুয়া, মলম, দাঁতের মাজন ও তাবিজ বিক্রি করে থাকে। ক্যানভাসারদের তাবিজ ওষুধ বাণিজ্যের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। এসব ক্যানভাসারদের কাছে বিজ্ঞান ফেল, ইতিহাস ফেল। তারা বড় বড় চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ করে ওষুধ, তাবিজ দিয়ে থাকেন। তারা গ্যাষ্টিক, আলসার, পেট ব্যাথা, দাঁত ব্যাথা, হাপানি, একজিমা, যৌন রোগ, মহিলাদের শ্বেতপ্রদর, পুরুষদের একশিয়া, টিউমারসহ এককথায় সব রোগের ওষুধ এক’শ পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বিক্রি করে। ফুটপাতে মজমা সরিয়ে যেসব ক্যানভাসার সব রোগের ওষুধ আর তাবিজ বিক্রি করেন এদের অধিকাংশই বিভিন্ন জেলা থেকে এ শহরে এসে মহৌষধের প্রতারনা বাণিজ্য করে থাকে। এরা লোকজন জড়ো করে প্রথমে নানা ধরনের গান বাদ্য শুনায়, কেউ কেউ সাপ বা বিভিন্ন ম্যাজিক দেখায়। এরপর রোগব্যাধি, বালা-মসিবত সারানোর নামে অলৌকিত কাহিনী শুনিয়ে লোকজনকে বোকা বানিয়ে ওষুদ আর তাবিজ দিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এ টাকার ভাগ পায় স্থানীয় মাস্তনরা। কোন কোন েেত্র পুলিশের সদস্যরাও নিয়ে থাকে। এছাড়াও ফুটপাতের বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে রিকশা ভ্যানে টেপ রেকর্ডার লাগিয়ে যে কোন চর্মরোগ সারতে দেশের সেরা মলম হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ির পাগলা মলম বিক্রি করে কেউ কেউ হাজীগঞ্জের এক ব্যক্তি এক শিংওয়ালী গরু নিয়ে এসে শহরের বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে তাবিজ বিক্রি করেন। গরুর, পিঠজুড়ে দুই পাশের লাল কাপড়ে লিখেছেন এক শিংওয়ালা গরুর তাবিজ ব্যভহার করলে হাঁপানী, একশিয়া রোগ ভালো হয়। হাদিয়া ২১ টাকা। এভাবে রোগ-বালাই সারানোর নামে সাধারণ মানুষ ফুটপাতের মজমা থেকে ওষুধ, তাবিজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব ওষুধের গুনগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজের শিক ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. উত্তম ঘোষ জানান, ফুটপাতের ওষুধ অবশ্যই মানবদেহের জন্য তিকর। কারণ এসব ওষুধ মাননিয়ন্ত্রিত নয়। গ্রামগঞ্জের অনেকেই ফুটপাতের ওষুধ সেবন করে আরো অসুস্থ হয়ে আমাদের কাচে আসেন। রোগমুক্ত সুস্থ দেহ এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা যেখানে আমাদের অঙ্গিকার সেখানে এসব অপচিকিৎসা ফুটপাতের ওষুদ বেচা বিক্রিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে নজরদারি থাকা উচিত।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...