কুমিল্লায় ৫ শতাধিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবসা

শাকিল মোল্লা : মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন ২০০৬ উপেক্ষা করে কুমিল্লার ৫ শতাধিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি আইনের ফাঁক গলিয়ে অবৈধভাবে জমজমাট সুদের ব্যবসা করে। পরিচালনা করছে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম। রমরমা ব্যবসার সুযোগে কোনো মাল্টিপারপাস সংগঠন পালিয়ে গেলে জনগণকে পড়তে হবে যুবক ও আইটিসিএলের মতো ট্রাজেডিতে।
কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিসের হিসেব অনুযায়ী জেলার ১৬টি উপজেলায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত বা রেজিষ্ট্রার্ড প্রাথমি ক সমবায় সমিতির সংখ্যা ১ হাজার ৯৫৫টি। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রাথমিক সমিতির সংখ্যা ১ হাজার ৭৪৮টি। কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতির সংখ্যা ১১টি। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর আওতাধীন কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতি ১৩টি। রেজিষ্ট্রার্ড বা নিবন্ধিত সমবায় সমিতি গুলোর মধ্যে ২৯ প্রকার সমিতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে কৃষক, তাঁতী, যুব, মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষী, বহুমুখী ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা পানি ব্যবস্থাপনা, সিভিডিপি, দোকান মালিক, হকার্স, পরিবহন মালিক, পরিবহন শ্রমিক, শ্রমিক কল্যাণ, সঞ্চয় ও ঋণদান, ভোগ্যপণ্য, কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, ক্রেডিট সোসাইটি, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, উপজেলা কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতি, কর্মচারী, মৃৎশিল্প, ভূমিহীন বিত্তহীন, মহিলা, অটোরিক্সা, অটোটেম্পু, দুগ্ধখামার, গৃহায়ন, কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক। তারমদ্যে বহুমুখী সমবায় সমিতি গুলো সুদের ব্যবসা করছে। জমজমাট সুদের ব্যবসায় নিয়োজিত অধিকাংশ সমিতির নাম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। অথচ এগুলো বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে নিবন্ধন বা রেজিষ্ট্রেশন নিয়েছে বলে জেলা সমবায় অফিস সূত্র জানিয়েছে। জেলা সমবায় অফিসার শফিকুল ইসলমা বলেন, ২/৪টি ছাড়া তারা ইংরেজি নামে কোন সমিতির নিবন্ধন দেননি। সমিতিগুলোর সুদের ব্যবসা আইনগত ভাবে বৈধ বলে জেলা সমবায় অফিসার জানান। তবে সুদের এই ব্যবসা অবশ্যই সমিতির সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। অথচ মাল্টিপারপাস সোসাইটিগুলো তাদের পুরো সুদের ব্যবসা চালাচ্ছেন সমিতির সদস্যবর্হিভুত লোকদের মধ্যে। এজন্য ঋণ গৃহীতাকে দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা মূল্যের খালি বা ব্ল্যাকিং স্ট্যাম্পের দস্তখত ও তারিখ বিহীন অগ্রিম ব্যাংক চেক। কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে ঋণ গ্রহীতাকে মামলা হামলাসহ নানাভাবে হয়রানি নাজেহাল করা হয়। সমিতি তাদের ইচ্ছে মতো সুদ আদায় করছে। অনেক সমিতি লাভের মুলা ঝুলিয়ে কাজ করছে। অবৈধ সেভিংস একাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিটের নামে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কুমিল্লার মুনোহরপুরে অবস্থিত অগ্রণী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ ডিপোজিটের মূল টাকা ৪ বছরে দ্বিগুণ ও ৬ বছরে তিনগুণের লোভের মূল্য ঝুলিয়ে দিয়েছে। জনসাধারণের সম্মুখে।
এছাড়া রয়েছে, ইসলামি ব্যাংকি ব্যবস্থার লোভ। ৬ বছরে তিনগুন লাভের প্রসঙ্গে জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবা অথবা হেরোইন ব্যবসা করা ছাড়া গ্রাহককে এত লাভ দেয়া সম্ভব নয়। এসব সমিতিগুলোর সাথে সমাজের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যাতে অনিয়মগুলো আলোতে না আসতে পারে। অনিয়ম আর অবৈধ ব্যাংকিং র্কাক্রম সম্পর্কে জেলা সমবায় অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অফিযোগ পেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সমিতির বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সুদের কোন সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা হার নেই। সমিতিগুলো তাদের সাধারণ সভায় সুদের হার নির্ধারণ করে। সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি না থাকায় চৌদ্দগ্রামের যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মুন্সী জামাল কমিটির ৯ সদস্যের টাকা আত্মসাত করে ফেলেছে বলে জানা গেছে। টাকা হারিয়ে অন্যরা এখন হায় হায় করছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথারটির সনদ না নিয়েই এসব সমিতি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ক্ষুদ্র ঋণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এই আইনটি জাতীয় সংসদে পাশ করে। ২০০৬ সালের ২৭ আগষ্ট তেকে আইনটি কার্যকর হয়। আইননের আওতায় সকল ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানকে সনদের জন্য একই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। কুমিল্লায় মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলো সনদের জন্য কোন আবেদন নিবেদন না করেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আইন লংঘনের দায়ে কুমিল্লার কোনো সমিতির বিরুদ্ধে অথরিটি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...