কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ-শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা। আহত ৩৫

কুবি প্রতিনিধি : বুধবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। সন্ধ্যার ৭টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল নয়টায় ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসাবে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মিছিল বের করে। পৌনে দশটার দিকে ভিসি ড. জেহাদুল করিম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ভিসিকে মারতে যায়। ব্যাপক পুলিশ পাহারায় ভিসি তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এমন সময় ১০-১২ জন শিবির কর্মী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা ধর ধর বলে ধাওয়া করে এবং মারধর করে। এ সময় আহত হয় শিবির কর্মী ইমাম, জীবন ও শরিফসহ কয়েক জন। একদফা সংঘর্ষের পর শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত ভার্সিটি মেসে এবং ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগ কর্মীরা আবারোও ভিসির পদত্যাগের দাবীতে স্লোগান দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে বেলা ১১টায় শিবির সংঘবদ্ধ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা বিপুল সংখ্যক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে মামা ক্যাফের সামনে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ কর্মীরা বহিরাগত সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে ভার্সিটি মেসে হামলা চালাতে ছুটে যায়। এ সময় শিবির পাল্টা ধাওয়া করলে ছাত্রলীগ পিছু হটে। এ সময় উভয় গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিপে করে। ছাত্রলীগ ক্যাডাররা রিভলবার, শটগান, রামদা, চাপাতি, ক্রিজ, রড ও ব্যাপক লাঠিসোটা নিয়ে শিবির কর্মীদের ধাওয়া করে। এ সময় শিবির কর্মীদের ল্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছুড়ে। নিরস্ত্র শিবির কর্মীরা আত্মরার্থে পার্শ্ববর্তী সালমানপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়। বিভিন্ন বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়া শিবির কর্মীদের খুজে বের করে এলোপাতারী কোপাতে থাকে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এতে গুরুতর আহত হয় শিবির কর্মী শাহাদাৎ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সাইফুল, ইমরান হোসেন, নিজাম উদ্দিন, মাহাবুব মিয়াজি, রাফিউল কাদের, আব্দুর রহমান, মনির হোসেন ও আবু মুসা সহ প্রায় ২০জন শিবির কর্মী। ছাত্রলীগের মধ্যে আহত হয় শাওন, ইমরান, রুহুল, হাসান, শোভন, জয়, শাহরিয়ার, ফাহিম। আহতদেরকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিবির কর্মী শাহাদাতের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা যায়। ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তার হাতের আঙ্গুল এবং পায়ের রগ কেটে দেয়। মাথায় রামদা দিয়ে এলোপাতারী কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডি নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।
পরে ছাত্রলীগ শিবির নিয়ন্ত্রিত ভার্সিটি মেসে তালা ভেঙ্গে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তারা দুটি কম্পিউটার, দুটি মটর সাইকেল ও ১০/১২টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। মটরসাইকেল দুটিকে পুলিশের সামনে আগুন লাগিয়ে পুড়ানো হয়। বেলা ১২টার দিকে শিবির ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় এবং ভিসির পদত্যাগের দাবীতে স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রলীগ কর্মীরা ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কাউকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে দিবে না বলে জানায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয় গেটে গাছ ও পিলার ফেলে পথ অবরোধ করে রাখে।
বেলা পৌনে দুইটায় ভিসি একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডাকলে বিক্ষুব্ধ শিকরা মিটিং বর্জন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোন মিটিং চলবে না বলে জানান। এ সময় শিকরা ভিসির রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষক ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা সিদ্ধান্ত বাতিলে জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় এডিশনাল এসপি ফরাদ মাহমুদ ভিসির সাথে কথা বলে জানান ভিসি ঢাকা লিয়াজু অফিসে গিয়ে পদত্যাগ করবে। এ কথা জানার পর বাইরে অবস্থানরত শিকরা বিক্ষোভ করতে থাকে। বিরুব্ধ শিক্ষকরা জানায় শিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের প্রত্য মদদ দাতা এ ভিসি। তাই আমরা ভিসির পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মাছুম ও অর্ণব জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় ঘোরাতে পরিকল্পিত ভাবে ভিসি শিবির কর্মীদের আমাদের উপর লেলিয়ে দেয়। আমরা এই সংঘর্ষের মদদ দাতা ভিসির পদত্যাগ চাই। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শিবির নেতা ফয়সাল ও আরিফ জানান, আমরা কাশ করার জন্য ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগ আমাদের উপর কোন কারণ ছাড়াই সশস্ত্র হামলা চালায়। শিবির কর্মীরা যেন হলে উঠতে না পারে সে জন্য ছাত্রলীগ পরিকল্পিত ভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা কর্তৃপরে কাছে এর বিচার দাবী করছি।
ভিসি ড. জেহাদুল করিম জানান একটি মহল সব সময় আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে জন্য ছাত্রদেরকে আমার বিরুদ্ধে উষ্কে দিচ্ছে।
এদিকে শিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ও শিকদের শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন। এতে আহত হন কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক মাহফুজুর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের শিক কাশেদুল ওহাব তুহিন। এ ঘটনায় ইংরেজি বিভাগের শিক শরিফুল করিম সুমন এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক আমজাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কম্পিউটার সাইন্সের শিক মাহফুজুর রহমান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...