BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / কুমিল্লা জেলা / দেবিদ্বারে অভাবের তাড়নায় ছেলে বিক্রির অভিযোগ!
Debidwar (Comilla) Pic-03.04.2019

দেবিদ্বারে অভাবের তাড়নায় ছেলে বিক্রির অভিযোগ!

মোঃ আক্তার হোসেনঃ-
অভাবের তাড়নায় দালালের মাধ্যমে ৫ মাস বয়সী ইয়াছিন নামের এক ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়া অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের পূর্বপাড়া মূন্সী বাড়িতে।
সরোজমিনে সোমবার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই বাড়িতে সাংবাদিকদের উপস্থিত দেখে সন্তানকে ফিরে পেতে বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েন ওই হতভাগা ছেলের মা বিলকিস বেগম (৩৫)। তিনি ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিন। আমার সন্তানকে আমার স্বামী দালালের মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে দিয়েছে। সন্তান হারা বিলকিস বেগম আরো জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি মাইক্রোবাস যোগে কয়েকজন লোক আসলে, আমার কোল থেকে জোরপূর্বক আমার ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের নিকট দিয়ে দেয় আমার স্বামী। আমি অনেক আকুতি মিনতি করেও আমার সন্তানকে আগলে রাখতে পারিনি। সন্তান দিতে না চাইলে, আমার স্বামী আমাকে মারধর করে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শোনেছি আমার স্বামী চরবাকর গ্রামের বলিমন্দের বাড়ির নূরুল ইসলাম’র মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকায় আমার সন্তানকে বিক্রয় করে দিয়েছে। সন্তানকে কোথায় বিক্রি করেছে জানিনা। আমার স্বামী জুয়ারী, জুয়া খেলে এখন প্রায় সর্বশান্ত। তাই অভাবের তাড়নায় আমার সন্তান বিক্রয় করেছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও আমি আমার সন্তান ফিরে পেতে চাই। তবে এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর কথা বলার সময় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়।
বিলকিসের স্বামী সেলিম মিয়া (৪৫) জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে ২২ বছর পূর্বে। অভাবের সংসার, স্ত্রী ও ৫ পুত্র ১ কণ্যা নিয়ে সংসারের ভরনপোষণ খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই চরবাকর গ্রামের ব্যবসায়ি নূরুল ইসলামের মাধ্যমে আমার সন্তানকে কুমিল্লায় এক নিঃসন্তান পরিবারের নিকট দত্তক হিসেবে দিয়েছি। তবে আমি কোন টাকা পয়সা নিয়ে সন্তানকে বিক্রি করিনি। আমার সন্তান ভালো থাকবে, লেখা পড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। এজন্যই দত্তক দিয়েছি।
শিশুটিকে দত্তক দিতে সহায়তাকারী চরবাকর গ্রামের ব্যবসায়ি নূরুল ইসলামের নিকট কোথায় সন্তান দিয়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, সন্তান বিক্রয় করা হয়নি, ওই পরিবারের সম্মতি নিয়েই কুমিল্লায় এক নিঃসন্তান শিক্ষক পরিবারের নিকট দত্তক দিয়েছি। তবে ওই পরিবারের পরিচয় সে জানেনা, এমনকি নামও জানেনা, তবে একটি সেল ফোন নম্বর দিয়ে বলেন, এটাই আছে।
পরে ওই সেল ফোনে যোগাযোগ করে জানা যায় ভিন্ন কথা। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি এ বিষয় কিছুই জানিনা, আমি কোন সন্তান নেইনি, যারা নিয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তার নাম শামিম আহমেদ, পেশায় শিক্ষক বলে জানান। তিনি আরো বলেন, তার কোন সন্তান নেই। একটি সন্তানের খোঁজে আছেন অনেক দিন। তাই তার এক ছাত্র একটি সন্তানের খোঁজ দেন। পরে ওই ছাত্র তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তার মা’ও তার ভাই দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর গ্রামের নুরুল ইসলামের সাথে যোগাােগ করতে বলেন। নুরুল ইসলাম ওই শিশুটির সন্ধান দেন এবং বাচ্চা নিতে হলে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান। এতো টাকা দিয়ে বাচ্চা কেনার সামর্থ আমার ছিলনা। পরে আরো একটি ধনাঢ্য নিঃসন্তান পরিবারের বাচ্চার প্রয়োজন হলে, ওই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। ওরা গত ১৬মার্চ এসে বাচ্চা দেখে পছন্দ করেন এবং কথাবার্তা শেষে গত ২৯ মার্চ ৩শত টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে কিছু শর্তস্বাপেক্ষে (শর্তগুলোর মধ্যে এ বাচ্চা আর কখনো দাবী করতে পারবেনা, তার খোঁজ খবরও নিতে পারবেনা উল্লেখযোগ্য) ৩জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষর নিয়ে ২লক্ষ ৫৫হাজার টাকা পরিশোধ করে বাচ্চা নিয়ে যায়। তবে তিনি ওই পরিবারের পরিচয় দিতে অপারগতা জানান, এক পর্যায়ে বাচ্চা গ্রহীতার নাম মঞ্জু, চট্রগ্রামে অডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, বাচ্চাটি ভালো থাকবে, ওই পরিবার বিশাল সম্পদের মালিক। ভবিষ্যতে সব কিছুরই মালিক হবে ওই শিশুটি।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক ওই বাড়ির কয়েকজন নারী জানান, বাচ্চা বিক্রয় করে দেয়ার সংবাদ পেয়ে আমরা বাচ্চাটিকে লোকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি, পারিনি। সেলিম মিয়া আমাদের সাথে খারাপ আচরন করে এবং তার ন্ত্রী’কে মারধর করে বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। ওই সময় বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষও ছিলোনা, যে তাকে বাধাঁ দিবে। ২২ বছর পূর্বে বিলকিস বেগমের সাথে সেলিমের বিয়ে হয়। তাদের ৫ছেলে ও ১কণ্যা সন্তান হয়। বড় ছেলে মোঃ সবুজ (২০) গ্রামের বাড়িতে থেকে সিএনজি চালায়, আকাশ(১৭) চট্রগ্রামে দাদা-দাদী-চাচার সাথে থেকে সিএনজি চালায়, সাওন (১৪) স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারি হিসেবে আছে, চতুর্থ ছেলে সাওন (৯) এবং এক মাত্র মেয়ে সাথী (১২) স্থানীয় বারুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। আর সর্বশেষ পঞ্চম পুত্র ইয়াছিনকে বিক্রয় করে দেয়া হয়। নাম প্রকাশে এলাকার লোকজন জানান, বারুর এবং পোনরা গ্রামে বড় বড় জুয়ার আসর বসে সেলিমও পাক্কা জুয়ারী আয়ের অধিকাংশ টাকাই জুয়া খেলে শেষ করে। জুয়ায় অনেক টাকা ঋণী হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি, এটি অতন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমি সকলের সাথে কথা বলে বাচ্চাটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবীন্দ্র চাকমা জানান, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে যেহেতু বিষয়টি এখন শুনেছি, তদন্তপূর্বক বাচ্চা উদ্ধার সহ আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Check Also

Comilla (North BNP Committee) Pic, dt. 27-09-18

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সভাপতি- আক্তারুজ্জামান’কে সাধারন সম্পাদক করে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা

মোঃ আক্তার হোসেনঃ– আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে সভাপতি ও মোঃ আক্তারুজ্জামানকে সাধারন সম্পাদক করে ...