BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা / কসবা / চোরাচালানে বাঁধা দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা
Debidwar sawon murder pic-1

চোরাচালানে বাঁধা দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা

মোঃ আক্তার হোসেনঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা শাওন হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশ। চোরাচালানে বাঁধা দেয়া, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা এবং পথের কাটা দূর করতেই ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে হত্যা করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে আইন শৃংখলা বাহিনীর ভূয়া পরিচয়ে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পানিয়ারুপ বাস স্ট্যান্ড থেকে কালো গ্লাসের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। পরে হাত-পা বেঁধে গুলি করে হত্যার পর লাশ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন সংচাইল এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়। শাওনকে বাড়ী থেকে বের করে আনতে শাওনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাসেলসহ ৩ বন্ধুকে ব্যবহার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ঘাতক রাসেলকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে ঘাতক রাসেল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এসআই শাহ কামাল আকন্দ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে মামলার রহস্য বের করতে সক্ষম হওয়ায় শাওনের পরিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার, ডিবির ওসি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পানিয়ারুপ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের ছেলে আজমীর হোসেন শাওন। সে কসবা টি.আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় একটি চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের ব্যবসায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শাওন। তাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয় ওই সিন্ডিকেটটি। চলতি বছরের গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে আইন-শৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে কালো গ্লাসের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয় শাওনকে। পরদিন হাত-পা বাঁধা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। ওই হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেয় ৪ ঘাতক। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন নিহত শাওনের বন্ধু রাসেল ভূইয়া। সে মুরাদনগর উপজেলার ডালপা গ্রামের রবি ভূইয়ার পুত্র।
যেভাবে হত্যার রহস্য বের হয়
এদিকে এ হত্যার নেপথ্যে রয়েছে কারা রয়েছে এমন প্রশ্নই এলাকায় ঘুরপাক খায়। ওই হত্যাকান্ডের ছিল না কোন প্রত্যক্ষদর্শী। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে স্পর্শকাতর এ মামলাটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। মামলার দায়িত্বভার পেয়ে মামলার রহস্য উৎঘাটনে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি টিম এ হত্যা সরাসরি অংশ নেয়া ঘাতক মো: রাসেলকে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্দিরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে রাতভর ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে ওই হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য। চোরাচালানে বাঁধা দেয়ায় একটি সিন্ডিকেটের নির্দেশে রাসেলসহ অন্যান্যরা পরিকল্পিতভাবে শাওনকে অপহরণের পর গুলি চালিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে শুক্রবার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে বলে আদালত ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম বলেন, মামলাটি ডিবিতে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শাওনের আত্বীয়-স্বজন, এলাকার লোকজন, শাওনের মোবাইলসহ সন্দেহবাজনদের মোবাইল কল লিস্ট পর্যালোচনা এবং অনেকের সাথে কথা বলে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। ঘাতক রাসেলকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকান্ডের বিবরণসহ অন্যান্য ঘাতকদের নাম প্রকাশ করেছে,হত্যাকান্ডে জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ নেপথ্যের নায়কদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে ডিবি কর্তৃক মামলার রহস্য উৎঘাটন হওয়ায় শাওনের বাবা জেলার কসবা উপজেলার পানিয়ারুপ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ভিন্ন একটি উপজেলায় আমার ছেলের মরদেহ গুলি করে ফেলে দিয়ে ছিল ঘাতকরা। তাই আমি এ হত্যাকান্ডের বিচার কিংবা খুনীদের গ্রেফতারের আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলাম, কিন্তু কুমিল্লার ডিবি পুলিশ মামলার রহস্য বের করতে কতোটা আন্তরিক থাকে তা আজ আবারো প্রমান পেলাম। তিনি বলেন, ডিবিতে মামলাটি যাওয়ার পর অনেকেই ভরসা দিয়ে বলেছিল যে তদন্ত কর্মকর্তার (শাহ কামাল আকন্দ) নিকট মামলা গিয়েছে ঘাতকরা মাটির নীচে গেলেও রক্ষা পাবে না, আজ তাই প্রমান পেলাম। তিনি পরিবারের এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবাসীর পক্ষ থেকে এ মামলার রহস্য ্উৎঘাটনের জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিবির ওসি একেএম মঞ্জুর আলম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ কামাল আকন্দসহ কুমিল্লার ডিবির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

Check Also

fdfsrfd

দেবিদ্বারে শিশু মেলা ও ‘শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় শীর্ষক আলোচনা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : ‘ফাইনাল পরীক্ষায় নানা সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে অতিরিক্ত নম্বর ও ...