BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা / নবীনগর / শতাব্দীর মহানায়ক ও শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিব
14 August)15 Bangobundu o Endragandi

শতাব্দীর মহানায়ক ও শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিব

 

সাধন সাহা জয়: নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :–

আজ ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সূর্য ওঠার আগে খুব ভোরে ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে স্বাধীনতা –বিরোধী চক্র নির্মমভাবে হত্যা করে।

ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রান হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুএবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল সহ আরো অন্যাকেও।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ইতিহাস প্রেমিক। ঐতিহাসিক গৌরবময় কাহিনী পড়ে তিনি রোমাঞ্চিত হতেন। দেশ ও জাতি সম্পর্কিত ধারনা তিনি ইতিহাসের পাতা থেকেই পেয়েছিলেন। হয়তো তিনি মনে মনে ইতিহাস সৃষ্ঠির স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং ইতিহাসের ঘটনাবলীর আলোকে তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলেছিলেন।

ছেলেবেলায় খেলাধুলার প্রতি মুজিবের আকর্শন ছিল অপরিসীম। স্কুলের যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুজিব একাই ছিলেন একশ”। ছেলেবেলা থেকেই দুঃখী মানুষের দঃখ তাকে ভারাক্রান্ত করে তুলতো। দরিদ্র মানুষের সেবায় তিনি ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন নিরলস। চালের ভা-ার উজার করে তিনি গরিব দুঃখীদের মধ্যে চাল বিলিয়ে দিতেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তিনি মানসিক তৃপ্তি পেতেন। কিশোর বয়সে গরিব দুঃখীদের মধ্যে চাল বিলিয়ে দিয়ে যে পরিতৃপ্তি তিনি পেতেন সেই পরিতৃপ্তি পাওয়াই ছিল তাঁর আজীবনের স্বপ্ন ও সাধনা।

যিনি মানুষের দুঃখে দুঃখ পান ,তিনিই তো মানুষের সত্যিকার নেতা। বাংলাদশ স্বাধীন হওয়ার পর তাই তিনি বলতেনঃ আজ দেশে কিছু নেই। বর্বর পাক সেনারা সব ধ্বংস করে গেছে। দেশবাসীর মুখে আমি কি তুলে দেবো। কোথায় পাব? কে আমাকে দেবে? বিশ্বের সবার কাছেই আমার আকুল আবেদন, বাংলাদেশের এই দুর্দিনে আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন।

শেখ মুজিব মাএ চৌদ্দ বছর বয়সে চক্ষু রোগে আক্রান্ত হন। এতে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটে। তিনটি বছর এমনিভাবে কাটিয়ে দেয়ার পর আবার অষ্টম শ্রেনীতে ভর্তি হন। তখন তাঁর বয়স আঠারো বছর। আঠারো বছর বয়সেই রাজনৈতিক অপরাধে তাঁকে সাত দিনের জন্যে জেলে যেতে হয়েছিল। তখন ইংরেজ আমল। রাজনীতি না করেও অষ্টম শ্রেনীর ছাএ শেখ মুজিবকে জেলে যেতে হয়েছিল।

শেখ মুজিব তাঁর ¯েœহময়ী মায়ের একন্ত অনুগত ছিলেন। মায়ের প্রতি অনুরাগের প্রকাশ একটি ঘটনা থেকেই সুস্পষ্ঠভাবে প্রতীয়মান হয়। শেখ মুজিব তখন কুর্মিটোলায় অন্তরীণ। মা মৃত্যুশয্যায়। খবর পেয়ে মাতৃভক্ত মুজিব উতলা হয়ে উঠলেন। যেমন করেই হোক মাকে এক নজর দেখতে হবে। কিন্তু কেমন করে। তিনি যে বন্দী। তবে কি মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হবে না? সাময়িক মুক্তির জন্যে প্রার্থনা করা হলো। মাকে দেখার জন্যে মুজিবকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলো।

মুজিব টুঙ্গিপাড়ায় ছুটে গেলেন। মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস ফেললেন। মমতাময়ী মা মুজিবকে চোখের সামনে দেখে আনন্দে কেঁদেছিলেন। মুজিব তাঁর মায়ের কোলে ফিরে এসেছে, জননী যেনো তা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। মা কাঁদলেন ,সন্তান কাঁদলেন। শিশুর মতো ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে মুজিব জন্মদাএী জননীকে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করলেন।

এই করুন মধুর মিলনের দৃশ্য বাংলার শাশ্বত চিএ। মা ভেবেছিলেন প্রানপ্রিয় সন্তানের মুখ বোধ হয় এ জনমে আর দেখা হবে না। কিন্তু সত্যিকার প্রানের টান যদি থাকে তা হলে অসম্ভব ও অনেক সময় সম্ভব হয়।

কলকাতায় ছাএ জীবনে শেখ মুজিবকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ আপনার পূর্ব পুরুষ কোথাকার অধিবাসী ছিলেন? বাগদাদ না ইরানের? প্রশ্নটি শুনে শেখ সাহেব একটু স্মিত হাসি হেসেছিলেন। তিনি জবাবে বলেছিলেন আমার পূর্ব পুরুষ কোথাকার ছিলো আমি জানি না। জানার কোন দরকার নেই। লাভও নেই। নিজের বংশ গৌরব বাড়ানোর জন্যে পূর্ব পুরুষের ঠিকানা নিয়ে টানা হ্যাঁচরা করতে ভালো লাগে না। আমি বাঙালী। বাঙালী হিসেবেই আমি গর্বিত। আমার পিতৃ পরিচয় এবং বাসভূমি নিয়েই সন্তুষ্ট।

ইরান তুরানের উষর জনপদের চেয়ে আমার বাংলা মায়ের সবুজ শ্যামল প্রাকৃতিক শোভার কি কোনো তুলনা চলে? তিনি ব্যক্তিগত জীবনাচারে যেসব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন ,সেসব অভিজ্ঞতার আলোকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অবতীর্ন হয়েছিলেন।

শেখ মুজিব বাল্যকালেই বিয়ে করেছিলেন। দশম শ্রেনীর ছাএাবস্থায় তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৪২ সালে একজন টগবগে তরুন হিসেবে কলেজ জীবন শুরু করেন। এ বয়সে তরুনদের পক্ষে রোমান্টিকতায় আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু শেখ মুজিবের মধ্যে তেমন কোনো রোমান্টিকতা দেখা যায়নি। তিনি ছিলেন অতিশয় বাস্তববাদী বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ।

সাড়ে সাত কোটি মানুষের আস্থাভাজন হওয়াটা ও কম সৌভাগ্যের ব্যাপার নয়। শেখ মুজিব ছিলেন সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন। দেশ এবং দেশবাসীর সুখ-দুঃখ, হাসি –কান্নার সঙ্গে তিনি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। তার এই উক্তিতে দেশবাসীর চেতনাই প্রতিফলিত, দেশের মানুষ তাই মুজিবকেই তাদের পরিএাতা বলে মনে করেছিল।

আসলে মুজিব ছিলেন জনগনের প্রকৃত বন্ধু। তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরের কথা জানতেন। পাকিস্তানের ¯্রষ্টা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ । কিন্তু বাংলার জনগন তার ছায়াও মাড়াতেন না। বাংলাদেশ স্বাধীন হবে একদিন। বাংলাদেশে একটা সমাজ বিপ্লব ঘটিয়ে জনগনকে সত্যিকারের স্বাধীন নাগরিক করার স্বপ্নকে সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু ৭০-এর নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩ টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ ১৬৭ টি আসনে(৭টি মহিলা আসনসহ) জয়ী হয়। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০ টি আসনের মধ্যে ২৯৮ টি (১০ টি মহিলা আসন সহ) আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষকে আক্রমন করেছিল। লাখ লাখ লোককে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু সেই সময় ডাক দিয়েছিলেন আর নয় ,মোকাবিলা কর। বাংলার মানুষ যে যেখানে আছ, যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুদের মোকাবিলা কর। বাংলার মাটি থেকে শত্রু উৎখাত করতে হবে। বাংলারদেশের মানুষকে স্বাধীন করতে হবে।

বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আমাদের ঘরে ঘরে দুর্গ গড়তে হবে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহবানে নয় মাসব্যাপী যুদ্ধ হলো। পাকিস্তানীরা পরাজিত ও বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। শেখ মুজিব হলেন স্বপ্নের সেনার বাংলা গড়বার কারিগর, বাঙালী জাতীর পিতা।

কিন্তু তিনি শিকার হলেন চক্রান্তের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ঠ গভীর রাতের অন্ধকারে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ঠ্র হিসাবে স্থান লাভ করেছে। কিন্তু এই স্বাধীনতা এসেছে বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে।

এই রক্ত দিয়ে যারা আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে তাদেরকে আমরা কোনদিন ভুলব না। ভুলব না শতাব্দীর মহানায়ক ও শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে যারা পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল, তারা ঘড়ির কাঁটা পেছনের দিকে ঘুরিয়ে দিতে লাগল, যাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষিতের গনতন্ত্র আর কখনো এ দেশে না আসে।

মহানায়ক না থাকলেও তাঁর আদর্শই যে প্রগতির মহাযাত্রাকে এগিয়ে নেয়, তা তারা কবে উপলব্ধি করবে ?।

Check Also

Muradnagar=23-03-19=

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...