Home / প্রচ্ছদ / কুমিল্লা জেলা / দেবীদ্বারে শরীরে আগুন লাগিয়ে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা
DEBIDWAE (COMILLA) NEWS- AGNI DOGDHO GRIHO BODHO POPI RANI SAHA (FILE PICTURE)- 15.06.15.

দেবীদ্বারে শরীরে আগুন লাগিয়ে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :—

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহের জের ধরে শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায়, উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামের সাহা পাড়ায়। পুলিশ রোবার রাত সাড়ে ৮ টায় নিহতার লাশ উদ্ধার করে দেবীদ্বার থানায় নিয়ে আসে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের পূর্বক সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেছে। অপর দিকে নিহতা পপি রানী সাহার পিতা হারাধন সাহা কণ্যা হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, গতবছর মার্চ মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারাম úুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের উত্তর সাহা পাড়ার হারাধন সাহার কণ্যা পপি রাণী সাহা(২০)’র সাথে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের মৃত: হরিপদ সাহা’র মালয়েশিয়া প্রবাসী পুত্র সুবল চন্দ্র সাহা(২৮)’র বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাস পর সুবল চন্দ্র সাহা মালয়েশিয়া চলে যান। সুবল বিদেশ যাওয়ার পর সেল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই নানা কথা নিয়ে মনমালিন্য দেখা দিত। এরই মধ্যে গত জানুয়ারী মাসে তাদের পরিবারে একটি কণ্যা সন্তান জন্মগ্রহন করে। ৬মাস বয়সী ওই কণ্যা সন্তানের নাম পুষ্পীতা রানী সাহা। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর পপি রানী তার কণ্যা সন্তান নিয়ে ভাসুর সত্যরঞ্জন সাহার পরিবারের সাথে একই বিল্ডিং-এ অবস্থান করেন। অপর ভাসুর পাশ্ববর্তী ঘরে বসবাস করে আসছেন।
ঘটনার দিন সকালে পপি’র সাথে সেল ফোনে তার মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী সুবল চন্দ্র সাহা’র কথা কাটাকাটি হয়। দুপুরে রান্না শেষে মেঝো ভাসুর সত্য রঞ্জন সাহা’র স্ত্রী রূপা সাহা(২৫)কে নিয়ে এক সাথে ভাত খায়। এসময় পপি তার জা’কে বেগমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া রূপা সাহার পুত্রকে খাবার দিয়ে আসার জন্য পিড়া পিড়ি করে ভাত দিয়ে তার জা’কে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এ সময় তার কণ্যাকে বেড রোমে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল। রূপা সাহা বিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে ঘরে কাপড় পোড়া গন্ধ পেয়ে রান্না ঘরে এসে দেখে ওই ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রান্না ঘরের দরজাও বন্ধ, অনেক ডাকা ডাকি করে পপির সারা না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। প্রতিবেশীরা এসে ঘরের পাশে কাপড় পোড়া গন্ধ পেয়ে রান্নাঘর খুলতে যেয়ে দেখেন ভেতর থেকে ছিটকিরি মারা। প্রতিবেশীরা শাবল, কুঠার দিয়ে দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে দেখে ধোঁয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে পপি আগুনে পুড়ে কাতরাচ্ছে। অপর পার্শ্বে গ্যাস সিলিন্ডারে চালিত চুল্লির দু’টি বার্নার জ্বলছে। স্থানীয়রা চুলা নিভিয়ে পপিকে ঘর থেকে বের করে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে কুমিল্লা পুলিশ লাইন এলাকায় পৌঁছার পরই তার মৃত্যু হয়।
নিহত পপি’র জা’ রূপা রানী সাহাএকই কথার পুনারাবৃত্তি করে আরো বলেন, সকালে তার প্রবাসী স্বামীর সাথে সেল ফোনে আলাপকালে বাগবিতন্ডা হয়, ওই ঘটনায় পপি খুব রাগান্বিত ছিল। পপিকে অনেক বুঝাই। সে আমাকে নিয়ে এক সাথে খেয়ে আমার ছেলের জন্য ভাত পাঠাতে খুব চাপাচাপি করছিল। এখন বুঝি কেন সে এমন করে ছিল।
অপর দিকে নিহত পপি’র মাতা কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, পপির শ্বশুর বাড়ির লোকদের পতিনিয়ত মানষিক নির্যাতন, অবহেলা, অনাদরে সে আত্ম হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার চাই।
পপির বড়ভাই স্বপন সাহার স্ত্রী সীমা সাহা জানান, ঘটনার দিন সকালে পপি আমাকে ফোনে জানিয়েছিল আর ভালো লাগেনা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে মেনে নিচ্ছেনা, আমার স্বামীও আমার কথার গুরুত্ব দিচ্ছেনা। বিয়ের আগে ছেলে পক্ষ মেয়ে দেখে পছন্দ করে যায়। বিয়ের দিন ছেলে মেয়ে দেখে পছন্দ করেনি। সমাজ পতিদের সহায়তায় এবং উভয় পরিবারের অনুরোধে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। শোনেছি বর সুবল তার বৌদী রূপা সাহার বোনের সাথে প্রেম ছিল, তার পরিবার ওই প্রেম মেনে না নেয়ায় এবং বাধ্য হয়ে আমার বোনের সাথে বিয়ে আয়োজন করে। বিয়ের পর আমার বোন তার শ্বশুর বাড়িতে শান্তিতে ছিলনা।
যেহেতু ঘটনাটি স্পর্শকাতর সেহেতু দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ্রতের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং ঘটনার তদন্ত করেন। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্পর্শ্বকাতর হওয়ায় আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি ঘানাটি আত্মহত্যা। কি কারনে আত্ম হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মোবাইল সেটটি খুঁজে পাইনি। মোবাইল নম্বরসহ গ্রামীণ ফোন অফিস থেকে কথপোকথনের রেকর্ড আনার জন্য আবেদন করেছি। ওই রেকর্ড পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে আত্ম হত্যা করার কারন। ওই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের পূর্বক লাশ ময়না তদন্তের জন্য সোমবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

Check Also

debidwer (Comilla) fire pic-24.03.2019

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...