BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা / নবীনগর / নবীনগরের নারায়নপুরের রাবেয়া খাতুনের চিড়াই হল জীবনের জীবন
web logo

নবীনগরের নারায়নপুরের রাবেয়া খাতুনের চিড়াই হল জীবনের জীবন

সাধন সাহা জয়: নবীনগর প্রতিনিধি :–

রাবেয়া প্রতিনিধি কে বলেন, বাবারে কত সাংবাদিক টাংবাদিক আইছে আমার কাছে, কেউই আমারে কষ্ট ছাড়া আর কিচুই দেইনাই। কাগজে যদি আমারে নিয়া কিছু লেইখ্যা দিত আমার মনে হয়ত কিছু মানুষ আমাকে দান টান করত। তারা শুধু আমারে দেখ্যাই চইলা যা ,কিছু বইল্লাও যানা, কি যানি ক বুঝিওনা।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পৌর এলাকার নারায়নপুর মধ্য পাড়ার মৃত মালেক মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৮৫) ভাতের পরিবর্তে চিড়া খেয়ে ৭২ বছর যাবত জীবন যাপন করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার নারায়নপুর গ্রামের মৃত মো:আশরাফ আলীর ছেলে মো:মালেক মিয়ার সাথে একই গ্রামের মৃত মো:চাঁনমিয়ার মেয়ে রাবেয়া খাতুনের ৭২ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। রাবেয়ার গর্ভে ৫ ছেলে ও ৫ মেয়ে জন্ম গ্রহন করলেও বর্তমানে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে জীবিত রয়েছেন।

জীবিত দুই ছেলের মধ্যে রমজান আলী রাজমিস্ত্রী ও আসমত আলী কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ২৫ বছর আগে স্বামী মালেক মিয়া মারা যায়। প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকেই রাবেয়া ভাতের পরিবর্তে চিড়া খাওয়া শুরু করে। সেই থেকেই অদ্য পর্যন্ত চিড়ার সাথে রান্না করা কিছু সবজি ও ফলমুল খেয়ে ৭২ বছর সময় পাড় করেছেন তিনি। প্রতিদিন তিন বেলা তিন ছটাক চিড়া খেয়ে জীবন যাপন করছেন।

রাবেয়া খাতুন প্রতিনিধি কে জানান, প্রথম সন্তান জন্মের পর মুখে অরুচির কারনে আমি ভাত, মাছ ও মাংস খেতে পারতাম না। আমি যখন ভাত খাইতে বইতাম তখনই ভাতের গন্ধে মুখে বমি আইত,অনেক দিন বার বার চেষ্টা করে ও ভাত খাইতে পারছি না।

যখনই ভাত খাইতে বইতাম ভাতের গন্ধে তখনই মুখে বমি আইত। তার পর থাইক্কা চিড়া খাওয়া শুরু করছি। এখনও ভাত, মাছের গন্ধ শুনলে বমি আয়ে। চিড়া খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে রাবেয়া প্রতিনিধি কে বলেন, চিড়া খায়তে এখন পর্যন্ত আমার বড় ধরনের কোন অসুখ হয়নাই। তবে কিছু গ্যাষ্ঠিক অসুখ আছে।

আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়াই ভালই আছি। তবে অভাব অনটনের কারণে চিড়া ছাড়া ফলমুল কিনতে পারিনা। তাই চিড়াই আমার একমাত্র ভরসা। আমি রাবেয়া খাতুন আপনাদের সকলের কাছে সহযোগীতা চাই।

বয়সের ভারে ন্যুজ্ব রাবেয়া খাতুন এখন আর কাজকর্মও করতে পারেনা। ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে আর ছোট্ট নাতিকে নিয়ে গল্প করে সময় কাটায় সারাদিন।

অভাবের কারণে নাতিদের বায়নাও মিটাতে পারেনা রাবেয়া। সমাজের ধন্যাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে না আসলে হয়তো রাবেয়ার বাকি জীবনটা অনাদরে অযতেœ আর অবহেলায় একদিন হয়তো এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে।

Check Also

Debidwar sawon murder pic-1

চোরাচালানে বাঁধা দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা

মোঃ আক্তার হোসেনঃ– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা শাওন হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে কুমিল্লা জেলা ...