BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / সাহিত্য / অন্যান্য / অপরাজনীতি ও মিথ্যার বেসাতী দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে
Ali ashraf khan

অপরাজনীতি ও মিথ্যার বেসাতী দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে

—মো. আলী আশরাফ খান

দেশের চলমান অপরাজনীতি ও হিংসাত্মক ভয়াবহ কর্মকা- নিয়ে কথা বলা যে নিরাপদ নয় তা ভাবা মোটেও অমূলক নয়। কেনো না সত্য কথা বলতে ও লিখতে গিয়ে বড় বড় সাংবাদিক-সম্পাদকও অপশক্তির করালগ্রাসে খেঁই হারিয়ে নাস্তানাবুঁদ হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। আবার কেউ দিগি¦দিক হারিয়ে পর্দার অন্তরালে চলে গেছেন। কারো কারো ভাগ্যে জেল-জুলুমসহ ভয়াবহ নির্যাতনও ভোগ করতে হয়েছে, হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার মত খলিশা-পুঁটি নগন্য ব্যক্তির অবস্থা কি হবে তা সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন।
এসব কথা ভেবেই আমি লেখালেখি থেকে বেশ কিছুুদিন দূরে ছিলাম-এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তবে এই ক’দিন দু’চার লাইন করে ফেসবুকে লিখেছি নিজের চর্চাকে প্রাণবন্ত রাখার প্রয়াসে মাত্র। যদিও অনেকে বলে থাকেন, ফেসবুকে লেখালেখি তো আর লেখালেখি নয়, এটা ছেলেখেলার মতই নাকি মনে হয়! তারপরেও মনের খোরাক ও বেশ কিছু সংখ্যক প্রিয়বন্ধুর অনুরোধেই হয়েছে-হচ্ছে এসব টুকিটাকি লেখালেখি।
এখন আসা যাক চলমান রাজনীতি-অপরাজনীতির ধারার মূল প্রসঙ্গে। রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে বুঝেশোনে কথা বলতে হয়। রাজনীতি তো আর খেলনা নয় যে, বাচ্চারা বার বার ভাঙ্গবে আর অভিভাবকরা সস্তা দামে কিনে এনে ঘরে সাজিয়ে রাখবেন এবং আবার ভাঙ্গবে আবার কিনে আনবেন?
পাঠকদের জ্ঞাতার্থে প্রথমে আমি বলে রাখছি, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই এবং কোনদিন ছিলামও না। রাজনীতি সম্পর্কে আমার উল্লেখযোগ্য তেমন ধারণাও নেই। তবে এ কথা সত্য, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন সাধারণ মানুষেরও যেমন রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে তেমনি আমারও কিছুটা ধারণা তৈরি হয়েছে। জনগণের পাশাপাশি আমিও এখন মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষকে সহজে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোর যে অপসংস্কৃতি চালু রয়েছে এদেশে, তা এখন বন্ধের সময় হয়েছে এবং এখনই এর উপযুক্ত সময় বলে আমি মনে করছি। আমার মনে হচ্ছে, দেশের ভ্রান্ত রাজনীতিক ও রাজনীতিজীবিরাও এই সত্য বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছেন। তারা এটিও বুঝতে পারছেন যে, তাদের ছলাকলার দিন শেষ হয়ে গেছে। আগের মত ইচ্ছে করলেই জনগণকে নাচের পুতুল বানিয়ে যেমন খুশি তেমন নাচানো আর সম্ভব নয়। এখন যেমন জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সময়ের প্রয়োজনে দেশ চালানোর জন্য অপরাজনীতিকে পিছে ঠেলে সুস্থ রাজনীতিকে আলিঙ্গণ এবং নতুন ন¤্র-ভদ্র ও শিক্ষিত রাজনীতিক অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
রাজনীতিজীবিদের কাছে অপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থেই এখন ভ্রান্তধারার রাজনীতি চর্চা, অসুস্থ চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে জাতির কল্যাণে সৎ ও যোগ্যতার প্রশ্নে নেতৃত্বও বদলানো জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন জনগণ বুঝতে পারছে, দেশ-জাতিকে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যাবশ্যক রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্ধারিত নীতিমালা। (যা এখনও পূনার্ঙ্গরুপে গঠন করা সম্ভব হয়নি এদেশে) যে নীতিমালায় স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। আর সেটাই হবে প্রকৃত রাজনীতি তথা দেশ চালনার মানদ-। যাকে আমরা সহজ ভাষায় রাজনীতি বা দেশ পরিচালনার গাউডলাইন বলতে পারি। এ নীতিমালার যথাযথ অনুশীলনে ব্যক্তি-গোষ্ঠী সর্বোপরী সংগঠন হয়ে ওঠবে দক্ষ ও পরিপক্ক এবং এসব সংগঠন থেকে বের হবে প্রকৃত জনসেবক-দেশ পরিচালনার যোগ্য কর্নধার-শাসক গোষ্ঠী। যাদের মধ্যে অবশ্যই থাকবে প্রকৃত শিক্ষা, সৃজনশীলতা, সৃষ্টিশীলতা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা সর্বোপরি আর্দশিক বিষয়সমূহ। যা অন্যসব ব্যক্তি-গোষ্ঠী এবং দেশকে সত্য-সুন্দর ও আলোর দিকে টেনে আনতে বিরাট ভূমিক রাখবে। আর এসব বিষয় ব্যক্তি-গোষ্ঠী-দলের প্রকৃত রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। অথচ, আজ দেশে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ১ জন প্রকৃত রাজনৈতিক বা সত্যিকারের সৎ ও যোগ্য দেশপ্রেমিক-ত্যাগী মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হচ্ছে যে, আজ প্রায় চার যুগ হলো দেশ স্বাধীন হয়েছে। এ যাবৎ দেশে আমরা কতজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক-রাজনৈতিক পেয়েছি? কোন সরকারের আমলে আমরা কতটা ভালো ছিলাম, আছি? সন্ত্রাসী কর্মকা- কোন সরকারে আমলে কেমন হয়েছে, হচ্ছে? কোন দল আমাদের সামনে কতটা নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পেরেছেন, পারছেন? এই প্রশ্ন দেশ কর্ণদারদের প্রতি এখন ১৮ কোটি মানুষের।
ভাবতে অবাক লাগে, আজ স্বাধীন দেশের পাড়ায়-মহল্লায় রাজনীতির ‘র’ বোঝেনা এমন সব অকর্মা, অশিক্ষিত, অপদার্থ চোর-বাটপারেরা রাজনীতির নামে চোষে নিচ্ছে জনগণের রক্ত, ছাত্র নামধারী তরুণরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খুনের পর খুন করে বুক ফুলিয়ে উলঙ্গনৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে। হরতাল-অবরোধের নামে দেশে চলছে, পেট্টোল বোমার ছড়াছড়ি, জ্বালাও-পোড়াও, বোমা মেরে মানুষ হত্যা। মানুষের কোথাও কোন নিরাপত্তা নেই এখন। এভাবে কি একটি দেশ চলতে পারে? স্বাধীন দেশে সরকার সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরোধ করে নব্য স্বৈরাচারের প্রমাণ দিচ্ছে। আজ দেশে সীমান্তরক্ষী, র‌্যাবসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে ডিসি. এডিসি. ইউএনও, ওসি ও সাধারণ সিপাই পর্যন্ত অনির্বাচিত সরকারের অনৈতিকতার সুর ধরে সরকারের তাঁবেদারি করছে। রাজনীতিবিদদের শেল্টারে হেনহীন কর্ম নেই-যা তারা করছে না। তারা বেপরোয়া হয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, যৌন হয়রানী, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, রাহাজানি, বোমাবাজি, জ্বালাও পোড়াও, মানুষকে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে বিনাবিচাওে মানুষ হত্যা ও ব¬াকমেইলিং করে জনসাধারণদের জীবনকে দূর্ভিসহ করে তুলছে। রাজনীতিজীবিরা এখন দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতিতে রাতারাতি আঙ্গুলফুলে বনে গেছে কলাগাছ, গড়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। দেশের কথিত শিক্ষিত হায়নাদের ছোবলে দেশের প্রায় সব সেক্টরেই চলেছে মহাদুর্নীতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা,ভয়াবহ অরাজকতা। আজ দেশের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মুখে এমন সব অশ্রাব্য কথবার্তা শোভা পায় যা শুনে আমাদের অবুঝ শিশুরাও হয় হতবাক-ভাসে লজ্জার সাগরে।
দেশে আজ সুস্থ রাজনীতি-রাজনীতিবিদ, দায়িত্বশীল-চিন্তাশীল ও দেশপ্রেমিক কোথায়? আজ প্রকৃত রাজনীতি কি এবং রাজনীতিবিদ কারা এটি বোধ করি সচেতন জনগণ জেনে গেছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, নামধারী সকল রাজনৈতিকদের মুখোশ আজ উন্মোচন হয়ে গেছে। কারা কি মতলব নিয়ে ক্ষমতায় আসে, কারা কতটা দেশের সম্পদ লুটেপুটে খায় তাও জেনে গেছে সাধারণ মানুষ। বিগত দিনে মানুষ দেখেছে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তি-গোষ্ঠী নিজেদের বড় বড় ফাঁকা বুলিতে মাঠ সরগরম রেখেছে এবং তথাকথিত রাজনৈতিক ব্যক্তি-গোষ্ঠী যার যার পছন্দ মতো জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করেছে। যার ফলাফল অতীতে জনগণ দেখেছে এবং এখনও দেখছে। আজ দেশের রাজনীতিকদের চিন্তা করা উচিৎ, তাদেরই ক্ষমতার লোভ, মিথ্যার বেসাতী, নির্বুদ্ধিতা ও অসাধুতার কারণে দেশ-জাতি আজ মহাসর্বনাশে পতিত হয়েছে।
আমরা আবারও দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলছি, দেশের তথাকথিত রাজনীতিক ব্যক্তি-গোষ্ঠীরা ক্ষমতায় যাওয়ার পূর্বে যেসব মধুর মধুর কথা বলেন, ক্ষমতায় গেলে তা অকপটে ভুলে হিংস্র হয়ে নিজেদের হীনস্বার্থকে চরিতার্থ করে নিকৃষ্ট সব কর্মকা- শুরু করেন। তাদের হিংস্রতার থাবায় জনসাধারণরা নিজ দেশেও পরবাসীর মত জীবনযাপন করছে এখন। তাদের নীতিহীনতায় নিষ্পেষিত হয়ে আজ সাধারণ জনগণ নিরবে কাঁদছে। অথচ তারা চরম ধাপ্পাবাজ বুক ফুলিয়ে বড় বড় কথায় অভ্যস্ত। তাদের কোনরকম বোধদয় হচ্ছে না।
যারা নিজেদেরকে অতি ক্ষমতাবান মনে করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে অস্ত্রের ব্যবহারকে প্রধান্য দেন, খুন, চাঁদাবাজি ও মিথ্যার বেসাতী করেন, তারা কি করে জনগনের ম্যান্ডেট পাবেন? তাদের এসব কর্মকা- কি গণতান্ত্রীক? এখনও সময় আছে এসমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি-গোষ্ঠীদের সংশোধন হওয়ার। আর নইলে তাদের প্রতিহত করতে জনগণ আর ভুল করবে না। আজ আবারও সময় এসেছে জনগণের সচেতন হওয়ার। সরকার যেসব ভুল করেছে-করছে সংশোধনের সময় কিন্তু একবারেই চলে যায়নি। আর বিরোধী দলও বিগত দিনে এবং বর্তমানে যেসব ভুল-ত্রুটি করেছে,করছে সেসব শুধরানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। সুতরাং সরকার ও বিরোধী দল যদি মনে করেন, দেশের মানুষকে সুখে-শান্তিতে থাকতে দেবে, তাহলে এখনই তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বদলাতে হবে একরোখা ভ্রান্তরীতিনীতি-অপরাজনীতি এবং ক্ষমতার লোভ।
সবশেষে চলমান ভ্রান্তধারার অপরাজনীতি যে দেশকে ধ্বংসের ধারপান্তে পৌঁছে দিয়েছে এ বিষয়টিকে উপলব্ধিতে এনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অপরাজনীতির এই হলিখেলা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে আমজনতাকে। সরকার এবং বিরোধী দলের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ থাকলো, আপনারা আপনাদের ভুলগুলো ভেবে নিজেদের প্রতি অনুতপ্ত হোন, উভয়েই নমনীয় হয়ে সংলাপের ব্যবস্থা করুন। জাতিকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। আমাদেরকে মুক্তি দিন। আমরা আর পারছি না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদেরকে বাঁচান। প্রমাণ করুন, আপনাদের রাজনীতি জনগণের জন্যই-ক্ষমতার জন্য নয়।
=======================
লেখক: কবি কলামিস্ট ও সংগঠক
গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

Check Also

Image

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply