BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা; সত্যিই কি তিনি নোবেলের যোগ্য?
malala

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা; সত্যিই কি তিনি নোবেলের যোগ্য?

—এস.এম সাজু আহমেদ

পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলন কন্যা মালালা ইউসুফজাই। মাত্র এগার বৎসর বয়সে যিনি বিশ্বের চোখে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবানদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে আসেন বিশ্ব মাথাওয়ালাদের নজরে। তালেনবানের গুলির পরও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যা্ওয়া মালালা এখন তালেবানকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে নারী শিক্ষাক্ষেত্রে এবং বিশ্বের কিছু অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি নারী শিক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মাত্র পাঁচ বছর কাজ করার চেষ্টাতেই সতের বছর বয়সে পেয়ে গেলেন পশ্চিমাগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘নোবেল পুরস্কার’। তিনি পেলেন যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। তবে লেখার শুরুতেই জানিয়ে রাখি মালালা পাকিস্তানি কন্যা, আর এ জন্য মালালার নোবেল পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলছি এ বিষয়টি মনে করা অথবা ভাবার কোন অবকাশ নেই।

কেন যেন মনে প্রশ্ন জাগ্রত হচ্ছে, মালালা ইউসুফজাই কি আসলেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পা্ওয়ার মতো তেমন কিছু করতে পেরেছেন? তিনি কি এমন কোন শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পেরেছেন যাতে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়ে গেলেন? তিনি কি বিশ্বব্যাপী এমন কোন শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন যাতে তিনি এ পুরস্কার পেলেন? না-কি মালালা এসকল কাজ করবেন বলে আগেই উৎসাহের জন্য নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কার দিয়ে দিলেন? না আবার এমন হয়েছে যে পৃথিবীতে তাকে ব্যাতীত অন্য কোন যোগ্য মানুষ-ই খোঁজে পা্ওয়া যায়নি? না-কি এমন হয়েছে যে উপমহাদেশীয় পাকিস্তানি কন্যা মালালা তার আচার-ব্যবহার, কথা-বার্তা এবং ভদ্রতায় পশ্চিমাগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন বলেই তিনি শান্তির আগাম দূত হিসেবে শান্তিতে নোবেল পেলেন? কোথায় ছিলেন এই সম্মানিত মালালা যেদিন ফিলিস্তিনের অসহায় শিশুদের উপর ইসরায়েল বর্বর হামলা করে নির্বিচারে হত্যা করেছিল সোনার শিশুদের? কোথায় ছিল সেদিন মালালার সেই মানবতার বাণী যেদিন ইসরায়েল ধ্বংস করে দিয়েছিল ফিলিস্তিনের শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা? না-কি সেদিন এসকল বিষয়ে কথা বললে তার নো-বেল পা্ওয়া হতো না বলে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি?

আসলে এসকল প্রত্যেকটি প্রশ্নই বিশাল বিশাল প্রশ্ন, যে জিজ্ঞাসাগুলো আমার মতো এতো ছোট মানুষের কলমের লেখনিতে শোভা পায় না, অনেক পাঠক-ই হয়তো মনে মনে ভাবছেন ছোট মুখে বড় বড় কথা বলছে। আবার কিছু কিছু পাঠক প্রশ্নগুলোর তাৎপর্য নিয়ে একটু ‍ভাবারও চেষ্টা করছেন। তো যাই হোক মালালার শান্তিতে নোবেল জয় নিয়ে বেশি কিছু লিখতে চাই না, তবে মালালা তাঁর সতের বৎসর বয়সের মাত্র পাঁচ বছরেরও কম সময় যাবৎ নারী শিক্ষা প্রসারের চেষ্টা এবং খুব সামান্য পরিমানই শান্তির কথা বলে পেয়ে গেলেন পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রিত নোবেল পুরস্কার। অথচ আমরা যদি একটু চোখ তুলে তাকাই তাহলে দেখতে পা্ওয়া যাবে সারা বিশ্বে হাজার হাজার সমাজদরদী, দেশদরদী, বিশ্বদরদী পৃথিবীতে শান্তি সমৃদ্ধির উন্নয়নে ৪০/৫০ বৎসর এমনকি জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি অনেক কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ তাদেরকে আমরা চিনিনা, জানিনা, তারা সমাজ, দেশ, পৃথিবীর চোখে অবহেলিত, তারা বিশ্বের শান্তি সমৃদ্ধিতে অনেক কিছুই করছেন যেগুলো আমরা খালি চোখে কখনো খেয়াল করতে পারিনা অথবা খেয়াল করিনা। তবে আমার মনে হয় বিশ্বের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে তাক লাগিয়ে মাত্র পাঁচ বছর শিক্ষা এবং শান্তির উন্নয়ন করে নয় বরং এগুলোর চেষ্টা করেই মালালা ইউসুফজাই পেয়ে গেলেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার।

মালালা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান কতৃক গুলিবিদ্ধ হ্ওয়ার পর বর্তমান পর্যন্ত তার জীবনীতে দেখা যায় দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে চিকিত্সার পর সুস্থ হয়ে ওঠে ইয়ুসুফজাই মালালা। ততদিনে গোটা বিশ্ব জেনে গেছে মেয়েটির নাম। গোটা বিশ্ব দাঁড়িয়েছে তালিবান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই কিশোরীর পাশে। মালালার জীবন সামনে আসার পরই রাষ্ট্রসঙ্ঘও সকলের জন্য শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নেয়। দুহাজার পনেরর মধ্যে বিশ্বের সকলকে স্কুলে পাঠাতে মালালার নামে প্রকল্প তৈরির সুপারিশ হয়। যার জেরে পাকিস্তানে শিক্ষার অধিকার আইন আসে। দুহাজার তেরর এপ্রিল মাসে মালালাকে বিশ্বের একশো প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে টাইম ম্যাগাজিন। দুহাজার তেরোর বারোই জুলাই তাঁর জন্মদিনে রাষ্ট্রসঙ্ঘে তিনি বিশ্বের সকলের জন্য শিক্ষার কথা বলেন। নারীশিক্ষা আন্দোলন, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশ বিদেশের নানা পুরস্কার এবং সম্মান। এই কিশোর বয়সেই তিনি সাম্মানিক ডক্টোরেট পেয়েছেন হ্যালিফ্যাক্সের ইউনিভার্সিটি অফ কিংস কলেজ থেকে।

নোবেল কন্যা মালালা ইউসুফজাইয়ের সংক্ষিপ্ত উত্থান জীবনী থেকেও দেখা যায় গত ২০০৯ সালের অক্টোবরে তালেবান কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হন মালালা, এরপর তিনি সৌভাগ্যক্রমে ইংল্যান্ডে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সেরে ওঠেন এবং প্রায় পুরো বিশ্বে তালেবান কর্তৃক গুলির সুবাদে পরিচিতি লাভ করেন । এরপর ২০১০ সালের মাঝামাঝি সুস্থ হয়ে উঠে শুরু করেন নারী শিক্ষা প্রচারের চেষ্টা। আর এই চেষ্টা করাতেই মালালার জন্য সৌভাগ্য, তবে সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ মাত্র ৫ বছরের কম সময়ে তিনি কোন উল্লেখযোগ্য নারী শিক্ষার অগ্রগতি অথবা পৃথিবীর কোন স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনোরকম কাজ না করেই পেয়ে গেলেন শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার । সত্যিই যেন মালালার পুরস্কার অবিশ্বাস্য, অনেকটা হাস্যকর এবং পুরোপুরি পশ্চিমাদের কূটনৈতিক চাল চালানোর বহিঃপ্রকাশ বলেই অনেকের অভিমত । সর্বপরি মালালার জীবনী থেকেও এটাই লক্ষ্য করা যায় যে মাত্র ৫ বছরেরও কম সময়ে শুধুমাত্র নারী শিক্ষা প্রসারের চেষ্টা করেই তিনি পেলেন এই পুরষ্কার । তার এ পুরস্কার বাস্তবিক অর্থেই পৃথিবীর বুকে প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে বলেই মনে হচ্ছে । সর্বশেষে উপমহাদেশীয় কন্যা মালালা ইউসুফজাই নোবেল পাওয়ায় তাকে স্বাধুবাদ এবং ধন্যবাদ, তবে সত্যিই কেন যেন অনেক প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যায় তার নোবেল পুরষ্কার ।

=============================================
লেখক: এস.এম সাজু আহমেদ (সাংবাদিক ও কলাম লেখক)

মেইল: smshaju7@gmail.com

প্রয়োজনে: ০১৯১৭-৫২০৮৯৭

Check Also

image-546465

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধনের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা বলে আখ্যায়িত করেছে সম্পাদক পরিষদ। ...

Leave a Reply