সর্বশেষ সংবাদ:
You are here: Home » বিনোদন » খেলাধুলা » ক্রিকেট » অবশেষে বিশ্বকাপে পরাজয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া

অবশেষে বিশ্বকাপে পরাজয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৯ মার্চ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

টানা তিন বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা এবং পর পর দুই বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকা অস্ট্রেলিয়া দল এবারও অপ্রতিরূদ্ধ গতিতে চালিয়ে নিচ্ছিল তাদের বিশ্বকাপ মিশন। ইতিমধ্যে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নিজেদের অনেক উপরে নিয়ে গিয়েছে দলটি। দশম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে অজেয় থেকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছিল অসিরা। অবশেষে সেই জয়রথ থেমে গেল গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে।

১৯৯৯ সালের সপ্তম বিশ্বকাপ আসরের গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হারার পর টানা সাত ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ।তার পর বিশ্বকাপে আর কোন ম্যাচে হারেনি অস্ট্রেলিয়া । মজার ব্যাপার হল ৯৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ হেরেছিল ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সাথে । তার পর ১২ বছর পর দশম বিশ্বকাপে শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তানের কাছেই আবারো হারল অসিরা।

শনিবার দলগত নৈপুণ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার উইকেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এ জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় নিয়ে আফ্রিদি বাহিনীর পয়েন্ট ১০।

এই গ্রুপে সমান সংখ্যক ম্যাচে ৯ পয়েন্ট করে পেয়েও রানরেটে এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয় অবস্থানে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তৃতীয়। আর এই গ্রুপ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে নিউজিল্যান্ড।

কলম্বোর প্রেমাদাসায় টসজয়ী অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেয়া ১৭৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ৫৪ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ১৭৮ রান করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন আসাদ শফিক। ইউনিস খান ৩১ ও কামরান আকমল ২৩ করে আউট হলেও ওমর আকমল ৪৪ এবং আব্দুল রাজ্জাক ২০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রাখায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন ওমর আকমল।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গতিতারকা ব্রেট লি ২৮ রানে একাই নেন ৪ উইকেট। এছাড়া জনসন ও ক্রেইজা একটি করে উইকেট তুলে নেন।

লো-স্কোরিং ম্যাচ শেষে জয়ের পরিসংখ্যান এমন মনে হলেও জয় পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে পাকিস্তানকে। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি তাদের। বরাবরের মতো এবারও ব্যর্থ হন ওপেনার মোহাম্মাদ হাফিজ। দলীয় ১২ রানে ব্রেট লির বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে করেন ৫ রান। এরপর সতর্কতার সঙ্গে খেলতে থাকেন ওপেনার কামরান আকমল আর ওয়ান ডাউনে নামা আসাদ শফিক। দলীয় ৪৫ রানে আবারো ব্রেট লির শিকারে পরিণত হন কামরান। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৫ চারে ২৩ রান। এরপর আসাদ শফিক আর ইউনিস খান দলকে শক্ত ভিতে নিয়ে যান। তবে দলের ৯৮ রানে ব্রেট লির বলে উইকেটের পিছনে সহজ ক্যাচ দেন ৩১ রান করা ইউনিস খান। এরপরের বলে ইউনিস খানকে কার্বন কপি করে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মিসবাহ-উল হক। এখান থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে আসাদ শফিক আর ওমর আকমল ধীরে-সুস্থে দলের জয়ের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। ৩২তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৩৯ রানে জনসনের বলে ওয়াটসনের হাতে ধরা পড়ে অর্ধশতক বঞ্চিত হন শফিক। এরপর ১৪২ রানে ক্রেইজার বলে তুলে মারতে গিয়ে ব্রেট লির তালুবন্দি হন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তখন পাকিস্তান শিবিরেও শঙ্কা দেখা দেয় পরাজয়ের। তবে তা ভালোভাবেই সামলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওমর আকমল এবং অভিজ্ঞ আব্দুল রাজ্জাক।

এরআগে পাকিস্তানের সম্মিলিত পেস ও ঘূর্ণিবলের আক্রমণে ১৭৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন হাডিন। এছাড়া মাইকেল ক্লার্ক ৩৪ ও স্মিথ ২৫ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে ওমর গুল ৩টি, আব্দুল রাজ্জাক ২টি ও আফ্রিদি, রেহমান, হাফিজ ও ওয়াহাব রিয়াজ একটি করে উইকেট দখল করেন।




সর্বমোট পঠিত: 73

সর্বশেষ সম্পাদনা: March 20, 2011 at 11:52 pm

প্রিজম আইটি: ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট-এর জন্য যোগাযোগ করুন- ০১৬৭৩৬৩৬৭৫৭

Scroll To Top
Close
Like Us on Facebook
Click the Like Button to get Free Update