সর্বশেষ সংবাদ:
You are here: Home » প্রচ্ছদ » কুমিল্লা জেলা » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তাদের দেবিদ্বারের বধ্যভূমি পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তাদের দেবিদ্বারের বধ্যভূমি পরিদর্শন

দেবিদ্বার প্রতিনিধি::
১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহ অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের আর্ন্তজাতিক ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার অপরাধ সমূহের আওতায় সংঘটিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষ্য গ্রহন করতে গত মঙ্গলবার রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা অতি: পুলিশ সুপার মো: মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত দল কুমিল্লায় আসেন। বুধবার লাকসাম উপজেলার বেলতলী বধ্যভূমি পরিদর্ষন শেষে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে এগারটায় দেবিদ্বার উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যালয় সংলগ্ন বধ্যভূমি পরিদর্ষনে আসেন।
ওই সময় স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সালের ২৪ মে পাক হানাদাররা মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিন বাখরাবাদ গ্রামে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় ওই এলাকায় ধর্ষন, লুটপাট, অগ্নীসংযোগ সহ নারকীয় হত্যাযজ্ঞে ১৪২ জনকে নির্মমভাবে হত্যার পর ২২ যুবককে ধরে নিয়ে দেবিদ্বার ক্যাম্পে আসার পথে পথিমধ্যে তারকশীল ও দুলালকে ছেড়ে দেয়। বাকী ২০ জনকে নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যালয় সংলগ্নে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্বে ধৃতদের দিয়ে গর্ত খুড়ে চোখ বেঁেধ তাদের ব্রাস ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে, ভাগ্যক্রমে হরেকৃষ সাহা বেঁেচ গেলেও বাকী ১৯জনকে ওই বধ্যভূমিতে মাটি চাঁপা দেয়া হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বধ্যভূমির মাটি খুড়ে গণনা শেষে ১৯ টি কঙ্কাল পুনঃরায় ওই একই স্থানে মাটি চাপা দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে এস্থানটিতে বধ্যভূমির স্মৃতি রার্থে ১৯৯৬ ইং সনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রেসকাবের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবী উঠে। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বধ্যভূমি স্মৃতি সংরনের লক্ষে একটি স্মৃতি ফলক ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পরবর্তীর্তে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ওই স্মৃতি ফলক ও সাইন বোর্ড উপড়ে ফেলে এবং সুইপার দিয়ে কঙ্কালগুলো উঠিয়ে গোমতী নদীতে ফেলে দেয়। তারা বধ্য ভূমির উপরে টয়লেট নির্মান করার ধৃষ্ঠতা দেখায়। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে টয়লেটটি সরিয়ে ফেলা হলেও প্রশাসনের তুমুল প্রতিরোধের মুখে তারা বধ্যবূমির উপর মার্কেট নির্মান করে ফেলেন।
২০০৫ সালে সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সীর উদ্যোগে মার্কেটের দেড় ফুট জায়গা উদ্ধার করে ৬ ফুট প্রশস্থ এবং ১২ ফুট দৈর্ঘ্য জায়গার মধ্যে একটি স্মৃতি ফলক স্থাপন করা হয়। ওই সময় স্মৃতিসৌধ নির্মানে নক্সা-বাজেট পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
তদন্ত টিমের স্যা গ্রহন কালে মুখোমুখি হন দেবিদ্বার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডর আব্দুস সামাদ, উপজেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উদ্দিন মোল্লা, ডাঃ রফিকুল ইসলাম, সুধাংসু, অজয়, হাবিবুর রহমান, আঃ রাজ্জাক, আবল কাসেম,নজরুল ইসলাম,নজরুল হাজারী, আবুল হাসেম, আঃ সামাদ, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যোদ্ধাহত আলফু মিয়া ফকির দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই)সহিদুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক নানা পেশার লোকজন।

সর্বমোট পঠিত: 110

সর্বশেষ সম্পাদনা: November 6, 2010 at 8:57 pm

প্রিজম আইটি: ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট-এর জন্য যোগাযোগ করুন- ০১৬৭৩৬৩৬৭৫৭

Scroll To Top
Close
Like Us on Facebook
Click the Like Button to get Free Update