BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ও আমাদের কথা

জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ও আমাদের কথা

2009-12-07-20-01-10-084966600-jolbayu
স্টাফ রিপোর্টার :
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে সোমবার শুরু হলো বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলনে ১৯২টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন।
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত দায়ী কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমন কমানোর বিষয়ে দেশগুলো একমত হতে পারে কিনা, তার দিকেই চেয়ে থাকবে বিশ্ববাসী।পাশাপাশি ২০১২ সালে কিয়োটো সনদের মেয়াদ শেষের আগে কোপেনহেগের এ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বহু আগে থেকে বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনগুলো উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবের বিষয়টি বলে আসছে,বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকারই এখন স্বীকার করছে, জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতি এবং প্রকৃতির জন্য হুমকি।
কোপেনহেগেন সম্মেলন ইতিহাস গড়ার সুযোগ- এ মন্তব্য করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ‘সঠিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের ৫৬টি দেশের সংবাদপত্র রোববার একটি যৌথ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সবগুলো দেশই বলছে, তারা একটি চুক্তি চায় এবং অনেকের মতে, ২০১২ সালে কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ চুক্তিতে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো থাকা উচিত।
তবে শেষ পর্যন্ত এক সিদ্ধান্তে সবাই একমত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
দুই বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে জলবায়ু বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করতে একমত হন। এর ধারাবাহিকতায় কোপেনহেগেন সম্মেলন।
জলবায়ু নিয়ে পঞ্চদশ এ বিশ্ব সম্মেলন ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) সামিট বা সিওপি১৫ নামে পরিচিত।
১৯৯২ সালে রিও দি জেনিরোর ধরিত্রী সম্মেলনে গঠিত হয় ইউএনএফসিসিসি। এর উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে গৃহীত হয় কিয়োটো সনদ। এ সনদে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
তবে এসব চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা কমাতে সক্ষম হয়নি। বিভিন্ন দেশের সরকার কিয়োটো চুক্তির চেয়ে আরো বিস্তৃত এবং অত্যাধুনিক একটি চুক্তি করতে চায়।
কার্বন নির্গমন কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে। এ অঙ্গীকার পূরণের সময়সীমা হলো ২০২০ সাল। অবশ্য বেশ কয়েকটি দেশ এ সময়টা ২০৫০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করতে চাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যে বলেছে, তারা ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে প্রস্তুত রয়েছে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন কমাতে বলা হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সহায়তার জন্য ধনী দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে। তারা বলছে, কার্বন নির্গমন বেশি করার মাধ্যমে শিল্পোন্নত দেশগুলোই সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তাই তাদের মূল্য দিতে হবে।
সাধারণত জ্বালানির সবচেয়ে সস্তা উৎস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রধান উপায় হলো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করা। ‘ভয়াবহ’ জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করার জন্য দ্রুত তা বন্ধ করতে কত খরচ হবে সে বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী কারণগুলোর ৯০ শতাংশই মানবসৃষ্ট।
এর প্রধান কারণ হলো কয়লা, তেল, গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো। এগুলো কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করে। এতে করে পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় যা বেশি পরিমাণে সূর্য রশ্মি শোষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠ উষ্ণ করে ফেলে।
শিল্প বিপ্লবের পর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রায় দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বের কিছু কিছু অংশে এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। এসব প্রভাবের কিছু কিছু মোকাবেলা করতে অর্থায়ন করতে পারলেও কোপেনহেগেন চুক্তি প্রভাবটা থামাতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোপেনহেগেন চুক্তি কঠোর হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা হয়তো যাবে, কিন্তু গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পরিবেশ ও মহাসাগর কীভাবে প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অর্ধেকেরই বেশি হবে বাংলাদেশ থেকে। এ সংকট মোকাবেলায় সবাইকে এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। – পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরে দু’টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি বলেন, “পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের দুই থেকে তিন কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হবে, যা বিশ্বের সম্ভাব্য উদ্বাস্তুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুরা নগরমুখী হয়ে পড়বে। এতে সৃষ্টি হবে মানবিক সংকট, বাড়বে দারিদ্র্য।
কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এ ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ হয়ে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে থাকা দেশগুলোর জন্য এ সংক্রান্ত তহবিলের ৭৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক ড. মাহমুদা ইসলাম ও কবি নির্মলেন্দু গুণ।

Check Also

Muradnagar=23-03-19=

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...