BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / প্রচ্ছদ / কুমিল্লা জেলা / বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

5th Council of BNP

স্টাফ রিপোর্টার :
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর মঙ্গলবার সকালে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাউন্সিল উদ্বোধন করেন পুনর্র্নিবাচিত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
এর পরপরই দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং ৭৪ সাংগঠনিক জেলা কমিটির নেতারা নিজ নিজ জেলার পতাকা উত্তোলন করেন। পরে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয় সাদা বেলুন। এর আগে খালেদা জিয়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে করতালিতে পুরো এলাকা উৎসবে মেতে উঠে।
পতাকা উত্তোলনের পর খালেদা জিয়া মূল মঞ্চে এসে কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও অতিথিদের হাত তুলে অভিবাদন জানান।
বিএনপির কাউন্সিলের স্লোগান হচ্ছে- ‘নানান মানুষ, নানান পথ, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’।
কোরআন পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পরে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শোক প্রস্তাবে ১৯৯৩ সালের কাউন্সিল অধিবেশনের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মী, বিএনপির গোলাম হাফিজ, এম সাইফুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, কে এম ওবায়েদুর রহমান, আবদুস সালাম তালুকদার, এমরান আলী সরকার, একরামুল হক, আবদুল বাতেন তালুকদার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিজেপি প্রধান নাজিউর রহমান মঞ্জুর, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর রবার্ট কেনেডির নাম উত্থাপন করা হয়। পরে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
পঞ্চম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বহিরাঙ্গনে বিশাল দ্বিতল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি রয়েছে। এছাড়া দলীয় ও জাতীয় পতাকাও রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে খালেদা জিয়াসহ মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গনি, মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুবুউদ্দিন আহমাদ, এম শামসুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান আসন গ্রহন করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান।
মঞ্চের সামনে বসেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। মঞ্চের বাম পাশে কুটনীতিক-রাজনৈতিক ও অতিথিরা বসেন।
উদ্বোধনী মঞ্চের সামনেই চারটি প্যান্ডেলে কাউন্সিল-ডেলিগেট-অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাউন্সিল উপলক্ষে হলুদ টুপি, টি-শার্ট পড়েছেন অনেক কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা।
কাউন্সিলর-ডেলিগেটসহ অতিথিদের জন্য ছয় বিভাগের জন্য পৃথক আসন বিন্যাস রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে লাইন ধরে কাউন্সিলের কার্ড ঝুলিয়ে কাউন্সিল-ডেলিগেটরা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন।
সম্মেলন স্থলে ২০ হাজার আসন বসানো হয়। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১১টার পরপরই মঞ্চের চারপাশের বিশাল আঙিনায় মাটিতে বসানো হয় দলীয় নেতা-কর্মীদের।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাউন্সিল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তার বক্তব্য শেষ হয়।

খালেদা জিয়া কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন কঠিন সংগ্রামের’ জন্য তৈরি হতে
কঠিন সংগ্রামের’ জন্য তৈরি হতে দলীয় নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেছেন, “নতুন করে দুঃশাসন আজ আবার জাতির উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। কাজেই আমাদেরকে আবারও তৈরি হতে হবে কঠোর কঠিন সংগ্রামের জন্য। এজন্য প্রয়োজন শুধু নিজেদের ঐক্য এবং জনগণকে পাশে পাওয়া। আগামী দিনে এটাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের পঞ্চম কাউন্সিলের উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ভাষণে বিরোধী দলকে প্রাপ্য মর্যাদা ও সংসদকে কার্যকর করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান খালেদা।
তিনি বলেন,”বিরোধী দলকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিন, জনগণের পক্ষে কথা বলার পর্যাপ্ত সুযোগ দিন, অহেতুক ও মিথ্যা অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। দেশ ও জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে গোপন সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংসদে আলোচনার ব্যবস্থা নিন। আমরা সংসদকে কার্যকর করতে সহযোগিতা করব।”
একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, নির্যাতন বন্ধ করারও দাবি জানান খালেদা জিয়া।
কাউন্সিলে আগত কাউন্সিল-ডেলিগেটদের দলকে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে নতুন যোগ্য, দক্ষ, গুনী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার কথাও বলেন বিএনপি নেত্রী।
তিনি বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাজ করারও আহবান জানান।
তারেক রহমানের ভিডিওতে ধারণকৃত বক্তব্যের পরপরই খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখেন। দীর্ঘ দেড় ঘন্টা স্থায়ী বক্তব্যে খালেদা তার শাসনামল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডসহ নানা বিষয় বিবৃত করেন।
সরকারকে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, “আপনারা দেশের ও জনগণের পক্ষে কাজ করুন। নিজেদেরই ঘোষিত নির্বাচনী প্রতিশ্র”তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করুন। আমরা গঠনমূলক সহযোগিতা দেবো।”
তিনি দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস মোকাবেলায় তার দলের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রবর্তন করেছিল, তারা আবার সেই একই অপরাধ করতে পারে।”
জরুরি অবস্থা জারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খালেদা বলেন, “যারা অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় এসে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, তারাও আবার সেই অপরাধ আবার করতে পারে। আমাদেরকে তাই হুঁশিয়ার থাকতে হবে।
জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য চেয়ে তিনি বলেন, “ধর্মান্ধতা কিংবা ধর্মের বিরুদ্ধে রাজনীতি এর কোনোটাই আমাদের কাম্য নয়। এদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ আমাদের ভাই-বোন। সবাই এদেশের গর্বিত নাগরিক। আমরা সবাই বাংলাদেশী হিসাবে গর্ব নিয়ে বাঁচতে চাই।”
মধ্যাহ্ন বিরতির পর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ভেতরে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। এই অধিবেশনের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন হবে।
এছাড়া অধিবেশনের শুরুতে গত ৪ ডিসেম্বর চেয়ারপারসন নির্বাচনে খালেদা জিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ফলটি উপস্থাপন করা হবে।
কাউন্সিল উপলক্ষে রাজধানীতে বড় বড় ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনসহ অনুষ্ঠানস্থল নানা ধরনের পতাকায় সাজানো হয়েছে। বিপুল জনসমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর এই এলাকাটি।
আয়োজকরা জানান, পুলিশ ও র্যাবসহ দলীয় নিরাপত্তা স্কোয়াডের তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এই কাউন্সিলে উপস্থিত থাকছে ২৫১২ জন কাউন্সিলর, ১২ হাজার ডেলিগেইট এবং ৩ হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা গ্রিনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রথম কাউন্সিল অধিবেশন করেন। এরপর ১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় এবং ১৯৯৩ সালে বৃহৎ পরিসরে চতুর্থ কাউন্সিল হয় বিএনপির।

বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিল অধিবেশনে পাঁচটি দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝিং শিয়ান, বৃটিশ হাউজ অব কমন্স-এর সদস্য জর্জ গ্যালাওয়ে, পাকিস্তান ক্ষমতাসীন দল পিপলস পার্টির মিয়া এজাজুল হাসান, শ্রীলংকা ক্ষমতাসীন দল ফ্রিডম পার্টির নেতা ও পর্যটন উন্নয়ন মন্ত্রী ফায়াজ মোস্তফা, কানাডার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ ৫টি দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া ভারতের হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, মিশর, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, সুইজারল্যান্ড, মিয়ানমারের উপ রাষ্ট্রদুত উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির মিয়া এজাজুল হাসান কাউন্সিলের সাফল্য কামনা করে বলেন, “পাকিস্তান চায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র এগিয়ে যাক। আমরা বিএনপির সাফল্য কামনা করছি।”
কানাডার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ডেনিয়েল ব্রিটন বলেন, “বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা, টিপাইমুখ বাঁধ, জনসংখ্যা সমস্যাসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আমরা বাংলাদেশের বন্ধু। বিএনপির কাউন্সিলের সাফল্য কামনা করছি আমরা।”
এছাড়া কানাডার একটি নগরীর সাবেক মেয়র জ্যঁ মার্ক পেলেটিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সর্বসম্মতভাবে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেককে ওই পদে আনার ব্যবস্থা করা হয়। (আরো তথ্যসহ)
সংশোধিত গঠনতন্ত্রে একটি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করার পর যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ওই পদে তারেক রহমানের নাম মনোনয়নের প্রস্তাব করলে কাউন্সিলররা তুমুল করতালি দিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।
ষোলো বছর পর অনুষ্ঠিত বিএনপির এ কাউন্সিলের মাধ্যমে তারেক রহমানকে এরকম একটি পদে বসানো হবে বলে কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল।
বিএনপি চেয়ারপারসন এর অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন বলে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে।
বর্তমান গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে কে তার দায়িত্ব পালন করবেন তার কোনো উল্লেখ ছিল না।
১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর দলের সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা তারেককে এর কিছুদিন পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। গঠনতন্ত্রে না থাকা ওই পদটিও চেয়ারপারসন তার ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছিলেন।
সংশোধিত গঠনতন্ত্রে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৯ করা হয়েছে।
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এর পদাধিকার বলে এ কমিটিরও সদস্য হবেন তারেক রহমান।
বিএনপির ১৫ জন সহ-সভাপতির কেউ স্থায়ী কমিটির সদস্য নন।
সকালে কাউন্সিলের উদ্বোধনী পর্বে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ভিডিওতে ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হয়। এতে তারেক বলেন, এখনো তার চিকিৎসা চলছে এবং কবে কখন দেশ ও দলের কাজে জড়াতে পারবেন সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
জরুরি অবস্থা জারির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিদমন অভিযানের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের জামিনে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডন যান সেবছরের ১২ সেপ্টেম্বর।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তারেক রহমান সরকারে না থেকেও ব্যাপক প্রভাব রাখতেন বলে মনে করা হয়। দৃশ্যত দলের তরুন নেতা ও কর্মীদের একাংশের মধ্যে এখনো তার একটি সমর্থনভিত্তি আছে।
১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর বগুড়ায় স্থানীয় বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করে রাজনীতিতে আসেন তারেক রহমান। পরে তাকে প্রথমে ১নং যুগ্ম মহাসচিব এবং তারপর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তারেকের ভিডিও বক্তব্য প্রচার
অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ভিডিওতে ধারণকৃত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। ১০ মিনিট তার বক্ব্য প্রচার করা হয়।
২৪টি ৪২ ইঞ্চির টিভি ও ২০টি বড় পর্দায় এই বক্তব্য দেখানো হয়।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তারেক লন্ডনে রয়েছেন। ১/১১ জরুরি অবস্থার পর ৭ মার্চ তারেক রহমানকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। তার বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া উদ্বোধনী ভাষণ দেন।
আপ্যায়ন বিরতির পর মূল কাউন্সিল অধিবেশন হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল কক্ষে। এখানে শোক প্রস্তাব পাঠ ও গ্রহণ, মহাসচিবের সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, চেয়ারপারসন-২০০৯ নির্বাচনের ফলাফল উপস্থাপন, গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন ও চেয়ারপারসনের বক্তব্য প্রদান এবং সর্বশেষে নতুন কমিটির বিষয়ে চেয়ারপারসনের ঘোষণা।
বিকালে চা বিরতির পরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

খালেদার নির্বাচন
পঞ্চম কাউন্সিল উপলক্ষে গত ৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া তৃতীয় দফার মতো চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপির শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। স্বামী জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা ১৯৮৩ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন ।
বিএনপি এই কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য খালেদা জিয়াকে কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি করা হয়। তিনি কাউন্সিল অনষ্ঠানে ১২টি উপকমিটি গঠন করে তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেন।
দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ৯ জুন বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ৭২টি কমিটি বাতিল করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪৯টি জেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠান করতে পেরেছে বিএনপি। এসব জেলায় নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কাউন্সিলর হয়েছেন। বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে সম্মেলন করতে না পারায় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও ১ নং যুগ্ম আহবায়ক কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী আসনের প্রত্যেকটি থেকে বিএনপির মোট ৪০ জন করে নেতা এ কাউন্সিলের ডেলিগেট হিসেবে যোগ দিচ্ছে।
মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন : ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ((ড্যাব) এর দুইটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে প্রকাশনা উপকমিটির একটি স্টল।
বিদেশী ও রাজনৈতিক নেতাবৃন্দ অতিথি: বিদেশী অতিথিদের মধ্যে মিশর, চীন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, সুইজারল্যান্ড, মিয়ানমারের উপ রাষ্ট্রদূত উপস্থিত রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এম কামারুজ্জামান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মহাসচিব শামীম আল মামুন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রধান শফিউল আলম প্রধান প্রমূখ রয়েছেন।
এছাড়াও রয়েছেন বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সারোয়ারি রহমান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জমির উদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রাজিয়া ফয়েজ, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, সাংবাদিক শফিক রেহমান, শওকত মাহমুদ প্রমুখ।
বিদেশী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্য : পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা অধ্যাপক মিয়া এজাজুল হাসান কাউন্সিলের সাফল্য কামনা করে বলেন, ”আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চাই। কামনা করি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এগিয়ে চলুক।”

Check Also

Muradnagar=23-03-19=

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...